সুরমা নদীর পাড়ে “I ❤️ Sylhet” নান্দনিকতা, না দৃষ্টিদূষণ?
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 121
আজ ফেসবুকে দেখলাম, সিলেট সার্কিট হাউজের সামনে সুরমা নদীর তীরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন একটি “I ❤️ Sylhet” সাইনেজ স্থাপন করেছে। এর সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপনও সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে জনমতের প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করলাম।
একজন স্থপতি হিসেবে আমার কাছে কয়েকটি প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।
১। ভাষা ও ভাবের প্রশ্ন:
সিলেটের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে ইংরেজিতে “I ❤️ Sylhet” লিখতেই হবে কেন? বাংলা ভাষার শহরে, বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য “আমি সিলেটকে ভালোবাসি” বা আরও সৃজনশীল কোনো বাংলা প্রকাশ কি সম্ভব ছিল না? তাছাড়া ভালোবাসা প্রকাশের প্রতীক হিসেবে পানপাতার আদল ব্যবহার করার যে চেষ্টা করা হয়েছে, সেটিও নান্দনিকভাবে সফল হয়নি।
২। অবস্থান নির্বাচনের প্রশ্ন:
সবচেয়ে বড় আপত্তি এর অবস্থান নিয়ে। সুরমা নদীর পাড়ের সৌন্দর্যই এই জায়গার মূল আকর্ষণ। সেখানে এমন একটি বড় কাঠামো বসিয়ে নদীর স্বাভাবিক দৃশ্য আংশিকভাবে আড়াল করা হয়েছে। একটি জনপরিসরে এমন স্থাপনা বসানোর আগে ভিউ করিডর এবং জনদৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।
৩। নকশার মান:
স্থাপনাটির ডিজাইনে মৌলিকত্ব, পরিমিতি ও শৈল্পিক সৌন্দর্যের অভাব রয়েছে। এটি একটি স্মারক বা ল্যান্ডমার্ক হিসেবে নয়, বরং একটি বাণিজ্যিক প্রচারণার উপকরণ হিসেবেই বেশি মনে হয়।
৪। নান্দনিক পরিকল্পনার অভাব:
কোন নকশাগত বা নগর-পরিকল্পনার বিবেচনায় এটি এখানে স্থাপন করা হয়েছে, তা জানা নেই। তবে দেখে মনে হয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় নগর নান্দনিকতা বিষয়ে পর্যাপ্ত পেশাদার মতামত নেওয়া হয়নি। একটি ঐতিহ্যবাহী নদীতীরের জনপরিসরে কী ধরনের স্থাপনা উপযুক্ত, সে বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন ছিল।
৫। বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের প্রশ্ন
আরও একটি বিষয় ভাবায়। একটি জনপরিসরের সৌন্দর্যবর্ধনমূলক স্থাপনার সঙ্গে কেন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির লোগো যুক্ত করা হলো? যদি এটি কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতায় হয়ে থাকে, তাহলে সেটি স্বচ্ছভাবে উল্লেখ করা যেত।

কিন্তু একটি নাগরিক স্থাপনাকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম বানানো জনপরিসরের মর্যাদার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা ভেবে দেখা দরকার। আর যদি এত ছোট একটি স্থাপনার ব্যয়ভারও সিটি কর্পোরেশন নিজে বহন করতে না পারে, তবে সেটিও নাগরিকদের জন্য একটি প্রশ্নের বিষয়।
সিলেট একটি ঐতিহ্যবাহী ও নান্দনিক শহর। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে সেই উদ্যোগ যেন শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আড়াল না করে, বরং আরও সমৃদ্ধ করে-এটাই প্রত্যাশা। একজন স্থপতি হিসেবে আমার বিশ্বাস, জনপরিসরে স্থাপিত প্রতিটি স্থাপনা নাগরিকের রুচি ও শহরের পরিচয়কে উন্নত করবে, দৃষ্টিদূষণের কারণ হবে না।
• শাকুর মজিদ : স্থপতি ও নাট্যকার

























