ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই
জুড়ীতে কৃষক কার্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
- / 29
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিবর্তে কৃষক কার্ডের অর্থ নগদে লেনদেনের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ডিলার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মিজান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান ফুলতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমানের ভাই এবং ইউনিয়ন বিএনপির একজন সদস্য।
গত ১৪ এপ্রিল দেশের ১০ জেলার ১১ উপজেলায় ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচির আওতায় জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লকের ৬৭০ জন কৃষকের ব্যাংক হিসাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরকারি সহায়তা জমা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কৃষকরা ডিলারের পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনে কার্ড ব্যবহার করে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক ও মৎস্য খাদ্য ক্রয় করতে পারেন।
গত ২৪ মে ফুলতলা ব্লকের কৃষক কার্ডধারী মমতা বুনার্জী, নিরঞ্জন রবিদাস ও শেফালী নায়েক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, কৃষি উপকরণ ক্রয়ের জন্য মিজান স্টোরে গেলে ডিলার বারবার তাদের কার্ড সক্রিয় হয়নি বলে জানান। পরবর্তীতে সোনালী ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে তারা জানতে পারেন, তাদের কার্ডে জমাকৃত অর্থ ইতোমধ্যে উত্তোলন বা লেনদেন করা হয়েছে। তাদের দাবি, ডিলার তাদের কার্ডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগের পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম জহরুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্তের আওতায় শুধু তিন অভিযোগকারীর বিষয়ই নয়, কৃষি পণ্য সরবরাহের পরিবর্তে নগদ অর্থ লেনদেনের অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল (মঙ্গলবার) সোনালী ব্যাংকের জুড়ী শাখা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী তিন কৃষকের কার্ডের অর্থ চারটি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে ই-কমার্স পদ্ধতিতে মিজান স্টোরের হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক সজল কর্মকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজান স্টোরের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল আলম খান বলেন, “অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ডিলারের পিওএস মেশিন জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, “কৃষক কার্ড ছিল বিএনপির অন্যতম অঙ্গীকার। সরকার গঠনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষকদের কল্যাণে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেন। কৃষি সহায়তা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাই এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যদি অনিয়ম, দুর্নীতি বা প্রতারণার আশ্রয় নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার। কৃষকের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় সহায়তার সুরক্ষায় এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”



















