ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 30
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
এ উপলক্ষে নৌ সদর দপ্তরে দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান কমান্ড হস্তান্তর-গ্রহণ বইয়ে স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় নৌ সদর দপ্তরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন
১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগ দেন খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। রয়্যাল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। নিজ ব্যাচে তিনি মেধা ও জ্যেষ্ঠতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। পাশাপাশি এমফিলসহ স্ট্র্যাটেজিক, ডিফেন্স ও অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের (এএফডব্লিউসি) কৃতি গ্র্যাজুয়েট।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মেধাবী। এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সফল নেতৃত্ব
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে ভাইস এডমিরাল আজীম নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড, স্টাফ ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল, কমান্ডার সাবমেরিন এবং কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ ছাড়া নৌ সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশন্স) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বানৌজা ওমর ফারুক, এস আর আমিন, নির্ভয়, সৈকত ও তিতুমীরসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজের অধিনায়ক ছিলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিএসসিএসসি এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা। তিনি লেবানন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ওমানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পদক ও সম্মাননা
কর্মজীবনে তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন সম্মাননা ‘নৌবাহিনী পদক (এনবিপি)’ এবং ‘নৌ-পারদর্শিতা পদক (এনপিপি)’ অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার, জাতীয় স্কাউট পুরস্কার (রৌপ্য ইলিশ পদক) এবং তিনবার নৌবাহিনী প্রধানের প্রশংসাসূচক ইনসিগনিয়া লাভ করেন।
এ ছাড়া তিনি ‘বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন’ পুরস্কার, সেরা ব্যক্তিগত গবেষণাপত্র পুরস্কার এবং এন্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার বিশেষায়িত প্রশিক্ষণে সেরা শিক্ষার্থীর স্বীকৃতি অর্জন করেন।
গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌবাহিনী গঠনের প্রত্যয়
পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম একজন গবেষক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও নৌ-কৌশল বিষয়ে তাঁর একাধিক গবেষণাপত্র দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান সরকারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং নৌবাহিনীর নিজস্ব শিপইয়ার্ড ও ডকইয়ার্ডের সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল বাহিনীতে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
























