কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- / 35
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের কালিঞ্জি বসতি এলাকায় কমলা বাগান উচ্ছেদের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনব্যাপী সরেজমিন তদন্ত করেছে। তদন্তে ঘটনাস্থলে ৬২৫টি কাটা গাছের গোড়া (স্টাম্প) শনাক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালে বাগান মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আলিম উল্ল্যা দাবি করেন, বাগানে প্রায় ১ হাজার ২০০টি কমলা, মাল্টা ও লেবুর গাছ ছিল। এর মধ্যে কিছু পুরোনো গাছ মারা যাওয়ায় সেখানে নতুন চারা রোপণ করা হয়েছিল। এছাড়া বাগানে সুপারি, উন্নত জাতের কলা, লাউ ও মিষ্টি কুমড়ারও চাষ করা হয়েছিল। উচ্ছেদ অভিযানে এসব গাছপালা ও ফসল সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা এ বাগান ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওর কাছে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে।
এদিকে, তদন্ত চলাকালে আদমপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, আদমপুর ভিট অফিসার অরুণ কান্তি যোগদানের পর থেকে তার সহযোগিতায় প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ ট্রাক সেগুন কাঠ পাচার করা হচ্ছে।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আদমপুর ভিট অফিসার অরুণ কান্তির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আব্দুর রহমান বলেন, “সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, কমলগঞ্জের কালিঞ্জি বসতি এলাকায় কমলা বাগান উচ্ছেদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটির প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে বন বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
























