১০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ফ্রান্সে ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ Logo শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আকতারুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত

মায়ের আকুতিতে নীড়ে ফিরলো দুই পাখির ছানা

খোর্শেদ আলম, জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / 75
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জুড়ী-কামিনীগঞ্জ বাজারে এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন দুই তরুণ। একটি মরা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে যেখানে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায় দুটি অসহায় বসন্ত বৌরি পাখির ছানার জীবন।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, বাজারের ব্যস্ত সড়ক দিয়ে এক পথচারী যাওয়ার সময় হঠাৎ মাথার উপর থেকে একটি শুকনো গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ওই পথচারী। ঘটনাস্থলের আশপাশে তখন আরও বহু লোকজন ও যাত্রীবোঝাই একটি মাইক্রোবাস অবস্থান করছিল। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই উপস্থিত লোকজন দেখতে পান, ভেঙে পড়া ডালের ভেতরে দুটি ছোট পাখির ছানা ছটফট করছে। বয়স খুব কম হওয়ায় ছানাগুলো নিজেরা নড়াচড়া করতেও পারছিল না। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো আর বাঁচানো সম্ভব হবে না।

ঠিক সেই সময় এগিয়ে আসেন দুই তরুণ জুবের আহমদ ও মাইক্রোবাস চালক আব্দুল কালাম। তারা পরিস্থিতি দেখে দ্রুত ছানাগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এসময় আরও আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়, মা পাখিটি বারবার মুখে খাবার নিয়ে এসে ছানাগুলোর পাশে ঘুরছিল।

মা পাখির এই আকুতি ও অসহায় ছানাগুলোর অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত মানুষজন। পরে জুবের ও কালামের পরামর্শে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কৃত্রিম বাসা তৈরি করা হয়। ভেঙে যাওয়া বাসার কাছেই নিরাপদ স্থানে ছানাগুলোকে সেই নতুন বাসায় তুলে রাখা হয়, যাতে মা পাখিটি সহজেই তাদের খুঁজে পায়।

স্থানীয়রা জানান, মানুষের ভিড়ের মধ্যেও দুই তরুণের এমন মানবিক ও সচেতন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই কাজে উপস্থিত অর্ধশতাধিক মানুষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

অনেকেই বলেন, মানুষের মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে বলেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছোট দুটি প্রাণ বাঁচাতে যে মমতা তারা দেখিয়েছেন, তা সমাজের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মায়ের আকুতিতে নীড়ে ফিরলো দুই পাখির ছানা

আপডেট সময় : ০৪:০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জুড়ী-কামিনীগঞ্জ বাজারে এক হৃদয়স্পর্শী মানবিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন দুই তরুণ। একটি মরা গাছের ডাল ভেঙে পড়ে যেখানে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায় দুটি অসহায় বসন্ত বৌরি পাখির ছানার জীবন।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, বাজারের ব্যস্ত সড়ক দিয়ে এক পথচারী যাওয়ার সময় হঠাৎ মাথার উপর থেকে একটি শুকনো গাছের বড় ডাল ভেঙে পড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ওই পথচারী। ঘটনাস্থলের আশপাশে তখন আরও বহু লোকজন ও যাত্রীবোঝাই একটি মাইক্রোবাস অবস্থান করছিল। মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর মধ্যেই উপস্থিত লোকজন দেখতে পান, ভেঙে পড়া ডালের ভেতরে দুটি ছোট পাখির ছানা ছটফট করছে। বয়স খুব কম হওয়ায় ছানাগুলো নিজেরা নড়াচড়া করতেও পারছিল না। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো আর বাঁচানো সম্ভব হবে না।

ঠিক সেই সময় এগিয়ে আসেন দুই তরুণ জুবের আহমদ ও মাইক্রোবাস চালক আব্দুল কালাম। তারা পরিস্থিতি দেখে দ্রুত ছানাগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এসময় আরও আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায়, মা পাখিটি বারবার মুখে খাবার নিয়ে এসে ছানাগুলোর পাশে ঘুরছিল।

মা পাখির এই আকুতি ও অসহায় ছানাগুলোর অবস্থা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত মানুষজন। পরে জুবের ও কালামের পরামর্শে তাৎক্ষণিকভাবে একটি কৃত্রিম বাসা তৈরি করা হয়। ভেঙে যাওয়া বাসার কাছেই নিরাপদ স্থানে ছানাগুলোকে সেই নতুন বাসায় তুলে রাখা হয়, যাতে মা পাখিটি সহজেই তাদের খুঁজে পায়।

স্থানীয়রা জানান, মানুষের ভিড়ের মধ্যেও দুই তরুণের এমন মানবিক ও সচেতন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই কাজে উপস্থিত অর্ধশতাধিক মানুষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

অনেকেই বলেন, মানুষের মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে বলেই এমন দৃশ্য দেখা যায়। ছোট দুটি প্রাণ বাঁচাতে যে মমতা তারা দেখিয়েছেন, তা সমাজের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।