শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কঠোর আইন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর
ফ্রান্সে ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
- / 24
১৫ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নতুন আইন পাস করেছে ফ্রান্সের পার্লামেন্ট। শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সাইবার বুলিং প্রতিরোধ এবং ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্টের প্রভাব কমাতে ইউরোপের অন্যতম কঠোর এই আইন আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো ব্যক্তি নতুন করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ব্যবস্থা চালু করতে হবে।
এ ছাড়া বর্তমানে ১৫ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্ধ বা অপসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে শিক্ষা, গবেষণা বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। সরকারের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের ফলে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে উদ্বেগ, হতাশা, আত্মবিশ্বাসের সংকট, ঘুমের সমস্যা এবং সাইবার হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নতুন আইন এসব ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকারের আশা।
তবে আইনটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশের মতে, বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে হলে তা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার জন্য নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নানা উপায়ে অনেক ব্যবহারকারী এই বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের এই উদ্যোগ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও অনুরূপ আইন ও নীতিমালা প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইউরোপজুড়ে আলোচনা জোরালো হওয়ায় ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও লে মন্দে।

























