০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

প্রেমিক যুগলের বি’ষপান: বেঁচে গেলেন প্রেমিকা, প্রাণ গে’ল প্রেমিকের

জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 79
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের হায়াছড়া এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে মংলা মুন্ডা (২৩) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রেমিকা জুলেখা মুন্ডা (২২) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত মংলা মুন্ডা গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া চা বাগানের কুচাই জালাই এলাকার বাসিন্দা বুদ্রা মুন্ডার ছেলে এবং শিলুয়া চা বাগানের নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মানসুখ মুন্ডার মেয়ে জুলেখা মুন্ডার সঙ্গে মংলার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চার-পাঁচ বছর আগে জুলেখার বিয়ে হলেও পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় এক বছর আগে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

জুলেখা বিবাহিত হওয়ায় মংলার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি এবং তার জন্য অন্যত্র পাত্রী খোঁজে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মংলার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার কথা ছিল। এ উপলক্ষে পরিবারে চলছিল প্রস্তুতি।

জুলেখার পরিবার জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত থেকে মংলা ও জুলেখার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে জুলেখা অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে স্বজনদের জানান, তিনি ও মংলা পাশের বিষহরি জঙ্গলে গিয়ে বিষপান করেছেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা প্রথমে তাকে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে মংলার স্বজনরা বিষহরি জঙ্গলে গিয়ে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহতের বড় বোন সালমি মুন্ডা অভিযোগ করে বলেন, আমরা চার বোনের একমাত্র ভাই ছিল মংলা। বাবা-মা অসুস্থ থাকায় পরিবারের সব দায়িত্ব তার ওপর ছিল। তাকে কেউ জোর করে বিয়ে দিতে চাপ দেয়নি। আমাদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কান্ত নাথ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের এক ভাগ্নের দেওয়া তথ্যে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রেমিক যুগলের বি’ষপান: বেঁচে গেলেন প্রেমিকা, প্রাণ গে’ল প্রেমিকের

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের হায়াছড়া এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে মংলা মুন্ডা (২৩) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রেমিকা জুলেখা মুন্ডা (২২) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত মংলা মুন্ডা গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের শিলুয়া চা বাগানের কুচাই জালাই এলাকার বাসিন্দা বুদ্রা মুন্ডার ছেলে এবং শিলুয়া চা বাগানের নিয়মিত শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মানসুখ মুন্ডার মেয়ে জুলেখা মুন্ডার সঙ্গে মংলার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। চার-পাঁচ বছর আগে জুলেখার বিয়ে হলেও পারিবারিক কলহের কারণে প্রায় এক বছর আগে তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

জুলেখা বিবাহিত হওয়ায় মংলার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি এবং তার জন্য অন্যত্র পাত্রী খোঁজে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) মংলার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার কথা ছিল। এ উপলক্ষে পরিবারে চলছিল প্রস্তুতি।

জুলেখার পরিবার জানায়, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত থেকে মংলা ও জুলেখার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে জুলেখা অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে স্বজনদের জানান, তিনি ও মংলা পাশের বিষহরি জঙ্গলে গিয়ে বিষপান করেছেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা প্রথমে তাকে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন।
খবর পেয়ে মংলার স্বজনরা বিষহরি জঙ্গলে গিয়ে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

নিহতের বড় বোন সালমি মুন্ডা অভিযোগ করে বলেন, আমরা চার বোনের একমাত্র ভাই ছিল মংলা। বাবা-মা অসুস্থ থাকায় পরিবারের সব দায়িত্ব তার ওপর ছিল। তাকে কেউ জোর করে বিয়ে দিতে চাপ দেয়নি। আমাদের সন্দেহ, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিলীপ কান্ত নাথ জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের এক ভাগ্নের দেওয়া তথ্যে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।