সড়ক দুর্ঘটনায় আলী হোসেনের মৃত্যুতে জুড়ীতে শোকের ছায়া
- আপডেট সময় : ০১:১৯:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
- / 80
মাত্র এক মাস আগে ঘর আলোকিত করে জন্ম নিয়েছিল একটি পুত্রসন্তান। ছেলেকে কোলে নিয়ে আলী হোসেন বারবার বলতেন, “আরেকবার বিদেশে যেতে পারলে ওর ভবিষ্যৎটা গুছিয়ে নিতে পারব।” সেই স্বপ্ন নিয়েই নতুন করে কাতারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। মেডিকেল পরীক্ষা শেষ, কাগজপত্রও প্রায় প্রস্তুত। বাকি ছিল শুধু উড়োজাহাজে ওঠা।
কিন্তু ভাগ্যের লিখন অন্য ছিল।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের বড়লেখা উপজেলার হাতলিয়া এলাকায় একটি পিকআপের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে থেমে যায় ২৮ বছর বয়সী আলী হোসেনের জীবন। যে মানুষটি পরিবারের ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথচলার স্বপ্ন দেখছিলেন, তিনি নিজেই ফিরে গেলেন নিথর হয়ে।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকের কক্ষে পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল সব অপেক্ষা। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলী হোসেন জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কচুরগুল গ্রামের মৃত সোয়াব আলীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলেন তিনি। কিছুদিন স্ত্রী-সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কাটিয়ে আবারও প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে কাতারকে বেছে নিয়েছিলেন। দুই দিন আগে সিলেটের কাতার ভিসা সেন্টারে মেডিকেল পরীক্ষা শেষ করে বিয়ানীবাজারে বোনের বাড়িতে যান। সেখান থেকে রোববার নিজের বাড়িতে ফেরার পথেই ঘটে যায় জীবনের শেষ যাত্রা।
আলী হোসেনের সংসার এখনো নবীন। দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন। এক মাস বয়সী শিশুপুত্রটি হয়তো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি ‘বাবা’ শব্দের অর্থ। কিন্তু সেই শিশুর জীবন থেকে বাবার ছায়া চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল।
দুর্ঘটনায় জুড়ী থানার এক পুলিশ কনস্টেবল, একজন নারী ও একটি শিশুসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের আবেদন করেছে। তবে দুর্ঘটনাস্থল বড়লেখা থানার আওতাধীন হওয়ায় সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কচুরগুল গ্রামে এখন শোকের নীরবতা। যে বাড়িতে কয়েক সপ্তাহ আগেও নবজাতকের কান্না আর নতুন স্বপ্নের গল্প ছিল, সেখানে আজ শুধু স্বজনদের আহাজারি। আলী হোসেনের কাতারযাত্রা আর হলো না; তাঁর যাত্রা শেষ হলো এমন এক গন্তব্যে, যেখান থেকে আর কোনো প্রবাসফেরা নেই।























