০৭:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক, সিলেট
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / 182
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের খাদিম চা বাগানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েক হাজার শ্রমিক অংশ নেন। সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং পরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সাময়িক অবরোধ সৃষ্টি করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতী। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক এবং বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষাসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো সম্পূর্ণ অমানবিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত। প্রতিবছর মাত্র ৮ টাকা করে মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবিকভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। তাই দৈনিক ন্যূনতম ৫০০ টাকা মজুরি নির্ধারণ এখন চা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার ন্যায্য দাবি।

ভূমির অধিকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও চা শ্রমিকরা আজও ভূমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। নিজস্ব জমির অধিকার না থাকায় তারা নাগরিক ও সাংবিধানিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করাকে সময়ের অপরিহার্য দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। দেশের অন্যতম অবহেলিত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরি আদায়ে সব চা বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবুজ তাঁতী বলেন, ‘আজ আমরা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময় পর সড়ক ছেড়ে দিয়েছি। তবে সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’

এর আগে খাদিম চা বাগানের লোহারপুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে নির্ধারিত সময় শেষে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়ে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

আপডেট সময় : ১০:৫৬:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন সিলেট অঞ্চলের চা শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিলেটের খাদিম চা বাগানে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে কয়েক হাজার শ্রমিক অংশ নেন। সমাবেশ চলাকালে শ্রমিকরা দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন এবং পরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সাময়িক অবরোধ সৃষ্টি করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি সবুজ তাঁতী। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, উপদেষ্টা সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, দপ্তর সম্পাদক দীপ্ত নায়েক এবং বুরজান চা-কারখানার শ্রমিকনেতা সুশান্ত চাষাসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে চা শ্রমিকদের বর্তমান মজুরি কাঠামো সম্পূর্ণ অমানবিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত। প্রতিবছর মাত্র ৮ টাকা করে মজুরি বৃদ্ধি শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসনের শামিল। বর্তমানে নির্ধারিত দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবিকভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। তাই দৈনিক ন্যূনতম ৫০০ টাকা মজুরি নির্ধারণ এখন চা শ্রমিকদের বেঁচে থাকার ন্যায্য দাবি।

ভূমির অধিকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চা বাগানে বসবাস করলেও চা শ্রমিকরা আজও ভূমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। নিজস্ব জমির অধিকার না থাকায় তারা নাগরিক ও সাংবিধানিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করাকে সময়ের অপরিহার্য দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের শিকার। দেশের অন্যতম অবহেলিত শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও তারা সবচেয়ে কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ন্যায্য মজুরি আদায়ে সব চা বাগানের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সবুজ তাঁতী বলেন, ‘আজ আমরা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট সময় পর সড়ক ছেড়ে দিয়েছি। তবে সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, পরবর্তী কর্মসূচিতে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’

এর আগে খাদিম চা বাগানের লোহারপুল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বাগানের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে নির্ধারিত সময় শেষে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়ে দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।