নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু: আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 15
শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান জনমত এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক চিঠিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের আমলে জনচাপের মুখে কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এটিই প্রথম পদত্যাগ।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, ‘যন্তর-মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অটুট থাকে, কোনো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং তারা যেন নির্বিঘ্নে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগ দিতে পারে-সেই বিবেচনায় আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।’
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আস্থা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দায়িত্ব পালনের সময় যাঁদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের সেবা করাই আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছিল। ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে পরে শিক্ষার্থী, তরুণ, অভিভাবক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল যুক্ত হয়।
গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) লাঠিচার্জের পর আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর সরকারের সঙ্গে সিজেপির একাধিক দফা বৈঠক হলেও দলটি শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘আপোষহীন’ দাবি হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করা হলে দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
আন্দোলনের মুখে সরকার কয়েকটি দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে এতদিন অনড় অবস্থানে ছিল। শেষ পর্যন্ত জনচাপ ও আন্দোলনের ধারাবাহিকতার মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর সরকার শিক্ষা সচিবকে বদলি, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত, বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেয়। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, প্রশাসনিক এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগই হতে হবে সরকারের জবাবদিহির প্রথম পদক্ষেপ।
























