প্যারিসে বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুরু, ই-পাসপোর্টে স্বস্তি; আরও উদ্যোগ চান প্রবাসীরা
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
- / 51
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ই-পাসপোর্ট আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে বিশেষ কনস্যুলার সেবা চালু করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) শুরু হওয়া এ উদ্যোগের প্রথম দিনেই পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই ৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
ই-পাসপোর্ট আবেদনের বাড়তি চাপ মোকাবিলা এবং দীর্ঘদিনের অ্যাপয়েন্টমেন্ট জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে দূতাবাস প্রথম দফায় ২৫ জুলাই, ৮ আগস্ট ও ২২ আগস্ট-এই তিনটি শনিবার বিশেষ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ সময়ে কোনো পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাস ই-মেইলের পরিবর্তে ওয়েবসাইটভিত্তিক অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করে। তবে সীমিত সংখ্যক স্লটের কারণে অনেক প্রবাসী সময়মতো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছিলেন না। আবার ই-মেইলের মাধ্যমে আগে আবেদন করেও অনেকের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হয়। বিশেষ করে ফরাসি প্রশাসন বা প্রেফেচুরে রেসিডেন্স পারমিটসংক্রান্ত নির্ধারিত সময়সীমা থাকায় অনেক আবেদনকারী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব কে. এফ. এম. শারহাদ শাকিল জানান, প্রথম দিনের সাড়া অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি বলেন, “আজকের বিশেষ এই সেবার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ভালো। প্রথম দিনেই ৮০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগে যারা ই-পাসপোর্টের জন্য ই-মেইল করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আবেদন ও ই-মেইলের জবাবও সম্পন্ন করা হবে।”

ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও স্লট বুকিং নিয়ে নানা কারিগরি সমস্যার অভিযোগ করে আসছেন প্রবাসীরা।
একজন আবেদনকারী জানান, নির্ধারিত সময়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও তিনি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেননি। বারবার ওয়েবসাইটে ত্রুটির বার্তা দেখানো হচ্ছিল।
এ বিষয়ে শারহাদ শাকিল বলেন, “একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে সাময়িক কারিগরি সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিষয়টি আইটি টিমের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে, যাতে সাইটটি আরও সহজ, কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করা যায়।”
কনস্যুলার সেবায় জনবল সংকট রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব বলেন, বৃহৎ প্রবাসী জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় সব দেশেই কনস্যুলার সেবায় জনবল বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তবে এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। বিদ্যমান জনবল ও সক্ষমতা দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে স্থানীয় বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আবেদনকারীদের তথ্য প্রদান, সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ধাপে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে তারা পুরো কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন। দূতাবাসের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা।
সম্প্রতি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে ই-পাসপোর্টের অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই দূতাবাস বিশেষ কনস্যুলার সেবাসহ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তবে এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রবাসীরা বলছেন, কনস্যুলার সেবাকে আরও কার্যকর ও প্রবাসীবান্ধব করতে জরুরি প্রয়োজনে একটি কার্যকর টেলিফোন হেল্পলাইন চালু এবং অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নির্ভরযোগ্য ও ব্যবহারবান্ধব করা প্রয়োজন।























