১০:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার Logo ছন্দে ফিরল সেলেসাওরা Logo বসুন্ধরায় যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার Logo মোহাম্মদনগরে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ ও ইউনিফর্ম বিতরণ Logo সুস্থ থাকতে যোগব্যায়ামকে জীবনের অংশ করার আহ্বান সিসিক প্রশাসকের Logo জোবায়দা রহমানের জন্মদিন উদযাপন Logo হাজীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা পারুলের Logo মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকির প্রতিবাদে বড়লেখায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল Logo বড়লেখায় ১৩ বছর আগের মামলায় জামায়াত নেতা খিজির আহমদ গ্রেফতার Logo টেকসই সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ শুরু

শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’

এক মঞ্চে দেশের ২৭ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির মিলনমেলা

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 49
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’। দেশের ২৭টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবনধারা ও শিল্পকর্মকে এক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধন হবে শুক্রবার বিকেল ৩টায়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উৎসব প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বসবাসরত খাসি, গারো, মণিপুরি, ত্রিপুরা, শবর, খাড়িয়া, সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুন্ডাসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী সম্প্রদায়গুলো তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, হস্তশিল্প ও জীবনধারার নানা উপকরণ প্রদর্শন করবে। দর্শনার্থীরা খাসিয়াদের পান ও বাঁশশিল্প, ত্রিপুরাদের কোমরতাঁত, মণিপুরিদের হস্ততাঁত, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মৃৎশিল্প তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া উৎসবে শবর সম্প্রদায়ের পত্য সাওড়া ও চারিয়া নৃত্য, বড়াইক সম্প্রদায়ের ঝুমুর নৃত্য, মুন্ডাদের মুন্ডারি নৃত্য, মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী রাসলীলা ও পুং চোলম এবং সিলেটের জনপ্রিয় ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হবে।

ফেস্টিভ্যাল প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করতে ‘হোমস্টে’ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “দেশের ২৭টি নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে এক মঞ্চে উপস্থাপন এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি জানান, উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের বাইরের দর্শনার্থীদের জন্য স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা ‘তিন দিন দুই রাত’ এবং ‘চার দিন তিন রাতের’ বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’

এক মঞ্চে দেশের ২৭ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সংস্কৃতির মিলনমেলা

আপডেট সময় : ০৪:১৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘হারমনি ফেস্টিভ্যাল’। দেশের ২৭টি আদিবাসী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবনধারা ও শিল্পকর্মকে এক মঞ্চে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধন হবে শুক্রবার বিকেল ৩টায়। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উৎসব প্রাঙ্গণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বসবাসরত খাসি, গারো, মণিপুরি, ত্রিপুরা, শবর, খাড়িয়া, সাঁওতাল, ওরাওঁ, মুন্ডাসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী সম্প্রদায়গুলো তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, খাদ্যাভ্যাস, হস্তশিল্প ও জীবনধারার নানা উপকরণ প্রদর্শন করবে। দর্শনার্থীরা খাসিয়াদের পান ও বাঁশশিল্প, ত্রিপুরাদের কোমরতাঁত, মণিপুরিদের হস্ততাঁত, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং মৃৎশিল্প তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এ ছাড়া উৎসবে শবর সম্প্রদায়ের পত্য সাওড়া ও চারিয়া নৃত্য, বড়াইক সম্প্রদায়ের ঝুমুর নৃত্য, মুন্ডাদের মুন্ডারি নৃত্য, মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী রাসলীলা ও পুং চোলম এবং সিলেটের জনপ্রিয় ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হবে।

ফেস্টিভ্যাল প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিভিন্ন স্টলে ঐতিহ্যবাহী খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামগ্রী বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য স্থানীয় সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তৈরি করতে ‘হোমস্টে’ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “দেশের ২৭টি নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে এক মঞ্চে উপস্থাপন এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।”

তিনি জানান, উৎসবে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের বাইরের দর্শনার্থীদের জন্য স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা ‘তিন দিন দুই রাত’ এবং ‘চার দিন তিন রাতের’ বিশেষ ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করেছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।