০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo আবেদ রাজার বক্তব্যের কড়া জবাব দিল কুলাউড়া বিএনপি Logo আগামীকাল বড়লেখায় আসছেন মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম চরমোনাই Logo আর কারও জার্সিতে ‘ফাইভ স্টার’ নেই- মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিল তারকা Logo লোহাগাড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ৪ Logo ‘বাজেট’ শব্দটি কীভাবে এল, আয়-ব্যয়ের হিসাবের বাইরেও যা জানা জরুরি Logo ৪ লাখ টাকার বেশি বেতনে টিআইবিতে চাকরির সুযোগ Logo লিডিং ইউনিভার্সিটির ‘ইইই’ বিভাগে রেকর্ড ভর্তি ও ৪৫তম ব্যাচের ওরিয়েন্টেশন সম্পন্ন Logo এএসপি পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, অবশেষে আটক Logo কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণ Logo রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত

লিখিত অভিযোগের পরও মেলেনি সমাধান, চার মাসের বিল ও জরিমানা নিয়ে দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা

বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না পেয়ে ভোগান্তিতে প্রায় অর্ধশত পরিবার

আফজাল হোসেন রুমেল, বড়লেখা
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 272
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিয়মিত বিতরণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় অর্ধশত পরিবারের গ্রাহক। কয়েক মাস ধরে বিলের কাগজ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেননি তারা। এতে একদিকে বকেয়া বিলের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য জরিমানা ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণভাগ এলাকার ৬৯২ নম্বর বইয়ের আওতাভুক্ত অধিকাংশ গ্রাহক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পাননি। এ সমস্যার সমাধান চেয়ে তারা গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিলের কাগজ না পাওয়ায় তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিলের পরিমাণ সম্পর্কেও অবগত হতে পারেননি। ফলে সময়মতো বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে- টানা চার মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়ে আছে। এতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারই আশ্বাস ছাড়া বাস্তব কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের ভাষ্য, “চার মাসের বিল একসঙ্গে পরিশোধ করা অনেক পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে যদি জরিমানাও যোগ হয়, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

দক্ষিণভাগ এলাকার খায়রুল, ছালিক, রফিক, শফিক, কয়েস, ফয়সাল, আব্বাস, ফখরুল, চেরাগ আলী, সাহিদ আহমদ, আমিনা, ফতিরা, অহিদ, মুহিত, সাদিক, রুবেল ও ছয়ফুল আলীসহ একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না পাওয়ার কারণে তারা জরিমানা, সংযোগ সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিলের কাগজ বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তারা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বড়লেখা জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, “গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, বকেয়া বিল ও সম্ভাব্য জরিমানার বিষয়ে গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

লিখিত অভিযোগের পরও মেলেনি সমাধান, চার মাসের বিল ও জরিমানা নিয়ে দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা

বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না পেয়ে ভোগান্তিতে প্রায় অর্ধশত পরিবার

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নিয়মিত বিতরণ না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় অর্ধশত পরিবারের গ্রাহক। কয়েক মাস ধরে বিলের কাগজ না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারেননি তারা। এতে একদিকে বকেয়া বিলের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য জরিমানা ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণভাগ এলাকার ৬৯২ নম্বর বইয়ের আওতাভুক্ত অধিকাংশ গ্রাহক চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পাননি। এ সমস্যার সমাধান চেয়ে তারা গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বড়লেখা জোনাল অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ গ্রাহকদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিলের কাগজ না পাওয়ায় তারা বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিলের পরিমাণ সম্পর্কেও অবগত হতে পারেননি। ফলে সময়মতো বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল ও মে- টানা চার মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হয়ে আছে। এতে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের চাপের পাশাপাশি অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবারই আশ্বাস ছাড়া বাস্তব কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের ভাষ্য, “চার মাসের বিল একসঙ্গে পরিশোধ করা অনেক পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে। এর সঙ্গে যদি জরিমানাও যোগ হয়, তাহলে সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

দক্ষিণভাগ এলাকার খায়রুল, ছালিক, রফিক, শফিক, কয়েস, ফয়সাল, আব্বাস, ফখরুল, চেরাগ আলী, সাহিদ আহমদ, আমিনা, ফতিরা, অহিদ, মুহিত, সাদিক, রুবেল ও ছয়ফুল আলীসহ একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না পাওয়ার কারণে তারা জরিমানা, সংযোগ সংক্রান্ত জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় রয়েছেন। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিলের কাগজ বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তারা দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বড়লেখা জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. খায়রুল বাকী খান বলেন, “গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, বকেয়া বিল ও সম্ভাব্য জরিমানার বিষয়ে গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।