টেকসই সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
- / 37
দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনধারা ও উৎপাদিত পণ্যকে বিশ্বপর্যটনের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। টেকসই কালচারাল ট্যুরিজম বা সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিকাশে আয়োজিত এ উৎসব ঘিরে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। পর্যটন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এথনিক ট্যুরিজমের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সিলেট ও শ্রীমঙ্গল অঞ্চলের পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমন আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম অংশ হলো অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যেই কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম এবং ওয়াটার ট্যুরিজমের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, জীবনাচার ও ঐতিহ্য শুধু দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পরিচয় বহন করে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও তা অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ ফেস্টিভ্যালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৭টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অংশগ্রহণ করেছে। তাদের নিজস্ব স্টলের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, বস্ত্র, অলংকার, কৃষিপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রী, শিকার ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে।
ফেস্টিভ্যালের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, লোকগান, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা, ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা এবং সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। দর্শনার্থীরা সরাসরি এসব সম্প্রদায়ের জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, চা-বাগান, বনাঞ্চল, পাহাড়ি পরিবেশ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে শ্রীমঙ্গল ইতোমধ্যেই দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।























