০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ছন্দে ফিরল সেলেসাওরা

ছাদিক হোসেন, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 151
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর ব্রাজিলকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ ছিল না। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনা, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং দলের ভারসাম্য—সবকিছু নিয়েই চলছিল আলোচনা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় দলগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। হাইতির বিপক্ষে সেই উত্তরটাই দিয়েছে সেলেসাওরা।

ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল ব্রাজিল। আগের ম্যাচের ৪-২-৩-১ ফরমেশন থেকে সরে এসে আনচেলত্তি ৪-৩-৩ কৌশল বেছে নেন। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুফল পেয়েছে আক্রমণভাগ। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়ার বোঝাপড়া হাইতির রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে।

ম্যাচের শুরুতেই রাফিনিয়া জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি। ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি কুনিয়া। ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথম গোলের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মাঝমাঠে দ্রুত পাসিং এবং উইং ব্যবহার করে হাইতির ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করতে থাকে তারা। ৩৬ মিনিটে আবারও ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল করেন কুনিয়া। ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সবচেয়ে স্মরণীয় রাতগুলোর একটি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোলের পুরস্কার পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ডিফেন্সের পেছনে চলে যাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ৩-০ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

প্রথম ৪৫ মিনিটে ব্রাজিল ছিল গতিময়, আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গতি কমিয়ে দেয় সেলেসাওরা। আনচেলত্তি বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন এবং বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করেন। ফলে বলের দখল ও আক্রমণে হাইতির উপস্থিতি বাড়লেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে ক্লিনশিট নিশ্চিত করেন।

এই জয়ে গ্রুপ সি-তে শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে হাইতির বিশ্বকাপ অভিযান কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তবে স্কোরলাইন যতই স্বস্তির হোক, আনচেলত্তির দলের সামনে এখনও কাজ বাকি। প্রথমার্ধে ঝলমলে ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল। নকআউট পর্বে যেতে হলে পুরো ৯০ মিনিট একই তীব্রতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেলেসাওদের জন্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছন্দে ফিরল সেলেসাওরা

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর ব্রাজিলকে ঘিরে প্রশ্নের শেষ ছিল না। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনা, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং দলের ভারসাম্য—সবকিছু নিয়েই চলছিল আলোচনা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় দলগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। হাইতির বিপক্ষে সেই উত্তরটাই দিয়েছে সেলেসাওরা।

ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল ব্রাজিল। আগের ম্যাচের ৪-২-৩-১ ফরমেশন থেকে সরে এসে আনচেলত্তি ৪-৩-৩ কৌশল বেছে নেন। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় সুফল পেয়েছে আক্রমণভাগ। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়ার বোঝাপড়া হাইতির রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে।

ম্যাচের শুরুতেই রাফিনিয়া জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ব্রাজিলের আক্রমণের ধার কমেনি। ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের শট গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি কুনিয়া। ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন তিনি।

প্রথম গোলের পর আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। মাঝমাঠে দ্রুত পাসিং এবং উইং ব্যবহার করে হাইতির ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করতে থাকে তারা। ৩৬ মিনিটে আবারও ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে গোল করেন কুনিয়া। ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সবচেয়ে স্মরণীয় রাতগুলোর একটি।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে গোলের পুরস্কার পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ডিফেন্সের পেছনে চলে যাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ৩-০ করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।

প্রথম ৪৫ মিনিটে ব্রাজিল ছিল গতিময়, আক্রমণাত্মক এবং আত্মবিশ্বাসী। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গতি কমিয়ে দেয় সেলেসাওরা। আনচেলত্তি বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন এবং বিভিন্ন কৌশল পরীক্ষা করেন। ফলে বলের দখল ও আক্রমণে হাইতির উপস্থিতি বাড়লেও গোলের দেখা পায়নি তারা। ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করে ক্লিনশিট নিশ্চিত করেন।

এই জয়ে গ্রুপ সি-তে শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দুই ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে হাইতির বিশ্বকাপ অভিযান কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
তবে স্কোরলাইন যতই স্বস্তির হোক, আনচেলত্তির দলের সামনে এখনও কাজ বাকি। প্রথমার্ধে ঝলমলে ফুটবল খেললেও দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল। নকআউট পর্বে যেতে হলে পুরো ৯০ মিনিট একই তীব্রতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে সেলেসাওদের জন্য।