জাকসুর উদ্যোগে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে ‘জাকসু হেলথগিয়ার ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকবয়, জাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হলে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অসুস্থ শিক্ষার্থী ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হল পর্যায়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এ কার্যক্রম।
প্রশিক্ষণে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, সিপিআর ও এইডি (CPR & AED) ব্যবহারের কৌশল, ক্ষত পরিচর্যা ও রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, ফ্র্যাকচার ও দগ্ধ ব্যক্তির প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ফার্স্ট এইড কিট ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন হলে ব্যবহারের জন্য রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, স্টেথোস্কোপ, নেবুলাইজার, ওজন মাপার যন্ত্র ও থার্মোমিটারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, “জাকসুর এ উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। খেলাধুলার মাঠে কিংবা হলে কেউ আকস্মিক বিপদে পড়লে ডাক্তারের কাছে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এ বিষয়ে অন্তত প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন—কীভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সহায়তা করতে হবে এবং কখন তাকে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।”
জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “আমরা যখন বাড়ি ছেড়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি, তখন আবাসিক হলগুলো আমাদের আরেকটি পরিবারের মতো হয়ে ওঠে। হলের সিকবয়রা অসুস্থতার সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে পরিবারের সদস্যের মতো দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে আরও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন ছিল। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “জাকসুর পক্ষ থেকে বিভিন্ন হলে যে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হল সংসদের প্রতিনিধিদের স্বাস্থ্য সম্পাদকের তত্ত্বাবধানে কাজ করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীও যদি এ উদ্যোগের মাধ্যমে উপকৃত হয়, তাহলেই এ কর্মসূচির সফলতা আসবে।”
জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আজকের প্রশিক্ষণ থেকে নেওয়া শিক্ষা যদি বাস্তবে হলগুলোতে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিটের সঠিক সিদ্ধান্ত অনেক সময় একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।”
জাকসুর আয়োজনে রিদম বাংলাদেশ ট্রাস্ট, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইনভেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
আয়োজকদের আশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।























