জুড়ীতে মাচায় তরমুজ চাষে দুই কৃষকের সাফল্য
- আপডেট সময় : ০৩:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 95
প্রচলিত কৃষি পদ্ধতির গণ্ডি পেরিয়ে মাচা পদ্ধতিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ডোমাবাড়ী গ্রামের দুই কৃষক সিরাজুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম। প্রথমবারের এ উদ্যোগে আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় তারা যেমন আশাবাদী, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
দুই কৃষকের জমিতে বীজ পাতা কোম্পানির ‘সূর্যডিম’ এবং লালতীর কোম্পানির ‘ল্যানফে’ জাতের তরমুজের আবাদ করা হয়েছে। আকর্ষণীয় রঙ, উন্নত স্বাদ ও মানের কারণে এ দুটি জাতের তরমুজ বাজারে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের নজর কেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় উৎপাদিত তরমুজ সহজেই বিক্রি হচ্ছে এবং কৃষকরাও পাচ্ছেন লাভজনক মূল্য।
কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি সহায়তায় তিনি প্রায় ২০ শতক জমিতে মাচা পদ্ধতিতে অমৌসুমের তরমুজ চাষ করেছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হলেও ফলন প্রত্যাশার কাছাকাছি হয়েছে। তিনি বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতো। এবার সফলতা পাওয়ায় আগামী মৌসুমে চাষের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
অপর কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, “শুরুর দিকে নতুন পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা ছিল। তবে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির কারণে ভালো ফলন পেয়েছি। আশা করছি, উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করে ভালো লাভ হবে।”
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রনি সিং বলেন, “জুড়ীতে মাচা পদ্ধতিতে অমৌসুমে তরমুজ চাষ একটি নতুন উদ্যোগ। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকির ফলেই এ সফলতা এসেছে। এ উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করবে।”
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, “অমৌসুমে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ এ অঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সীমিত জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক ফলন ও বাড়তি লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং লাভজনক কৃষি সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ সবসময় প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগে কৃষকদের পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।”
স্থানীয়দের মতে, দুই কৃষকের এই সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই উদ্যোগ জুড়ী উপজেলার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। কৃষি বিভাগের ধারাবাহিক সহায়তা ও কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে অমৌসুমে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ এ অঞ্চলে লাভজনক ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


























