০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo লিডিং ইউনিভার্সিটিতে রোবটিকস কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান Logo বড়লেখা আদালত প্রাঙ্গণে পুবালী ব্যাংকের অর্থায়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo রোগীর অ্যাম্বুলেন্সের চালক সিভিল সার্জনের গাড়িতে, ৯ মাস ধরে সংকটে জুড়ীর জরুরি সেবা Logo সিলেটস্থ দোয়ারাবাজার সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত Logo সিলেট উইমেন্স মডেল কলেজের ছয় শিক্ষার্থীর ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার সমমূল্যের স্কলারশিপ অর্জন Logo ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু ১৪ মার্চ Logo মোবাইল কোর্টে বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ এমপি শওকতুল ইসলামের Logo সিলেটে নিজ বাসার সামনে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা Logo কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ Logo মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চড়ুইভাতি

কাজাখস্তানে আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের তিন ব্রোঞ্জ

ক‍্যাম্পাস কন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 96
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াড (আইওএআই) ২০২৬-এ তিনটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এআই প্রতিযোগিতায় দেশের অগ্রযাত্রায় নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়েছে।

ব্রোঞ্জ পদকজয়ীরা হলেন কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের চতুর্থ সদস্য ছিলেন মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ। দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি) অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন।

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় অনুষ্ঠিত এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ১০৭টি দেশের ৪৩৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। ২ আগস্ট শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ৪ ও ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় দুটি একক মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীদের প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার মধ্যে তিনটি করে সমস্যার সমাধান করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দলগত কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়। ৭ আগস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মিলিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

দলনেতা ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, প্রথম আসরে বাংলাদেশ কোনো পদক পায়নি। দ্বিতীয় আসরে দুটি ব্রোঞ্জ জয়ের পর এবার তিনটি ব্রোঞ্জ অর্জিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশের দল ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। তবে আরও ভালো ফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্রোঞ্জজয়ী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ বলেন, একটি পদক জেতার অর্থ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সাফল্যের ধারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

গতবারের আইওএআই ব্রোঞ্জ পদকজয়ী এবং এবারের দলের মেন্টর আরেফিন আনোয়ার বলেন, তিন পদকজয়ীরই এটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

আয়োজকরা জানান, গত এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক পর্ব এবং ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্প শেষে আইওএআইয়ের জন্য চার সদস্যের জাতীয় দল নির্বাচন করা হয়। পরবর্তী প্রায় দুই মাস বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) তত্ত্বাবধানে অনলাইন প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিংয়ের মাধ্যমে দলকে প্রস্তুত করা হয়।

এবারের বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সিআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম খান এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন তাসনিম মাহফুজ নাফিস।

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এ আয়োজনে সহযোগিতা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কাজাখস্তানে আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের তিন ব্রোঞ্জ

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াড (আইওএআই) ২০২৬-এ তিনটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ সাফল্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এআই প্রতিযোগিতায় দেশের অগ্রযাত্রায় নতুন মাইলফলক যুক্ত হয়েছে।

ব্রোঞ্জ পদকজয়ীরা হলেন কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের চতুর্থ সদস্য ছিলেন মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ। দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের (আইআইটি) অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন।

কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় অনুষ্ঠিত এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ১০৭টি দেশের ৪৩৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। ২ আগস্ট শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ৪ ও ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় দুটি একক মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগীদের প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার মধ্যে তিনটি করে সমস্যার সমাধান করতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দলগত কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হয়। ৭ আগস্ট সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মিলিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

দলনেতা ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, প্রথম আসরে বাংলাদেশ কোনো পদক পায়নি। দ্বিতীয় আসরে দুটি ব্রোঞ্জ জয়ের পর এবার তিনটি ব্রোঞ্জ অর্জিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশের দল ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। তবে আরও ভালো ফল অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ব্রোঞ্জজয়ী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ বলেন, একটি পদক জেতার অর্থ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সাফল্যের ধারা আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

গতবারের আইওএআই ব্রোঞ্জ পদকজয়ী এবং এবারের দলের মেন্টর আরেফিন আনোয়ার বলেন, তিন পদকজয়ীরই এটি ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতেই তারা যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

আয়োজকরা জানান, গত এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক পর্ব এবং ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্প শেষে আইওএআইয়ের জন্য চার সদস্যের জাতীয় দল নির্বাচন করা হয়। পরবর্তী প্রায় দুই মাস বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) তত্ত্বাবধানে অনলাইন প্রশিক্ষণ ও মেন্টরিংয়ের মাধ্যমে দলকে প্রস্তুত করা হয়।

এবারের বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সিআইএস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম খান এবং একাডেমিক কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন তাসনিম মাহফুজ নাফিস।

বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এ আয়োজনে সহযোগিতা করে।