জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে নানা আয়োজন
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 123
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, জুলাইযোদ্ধাদের স্বীকৃতি প্রদান, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলীর নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।
আলোচনা সভা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জামিউর রহমানের কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জুলাই আন্দোলনভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আলী ওমর।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সৈয়দ রাগীব আলী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, সমাজ পরিবর্তনে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং অর্জিত সাফল্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
মুখ্য আলোচক হিসেবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হামিদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ চেতনা সমুন্নত রাখতে ঐক্য, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার বিকল্প নেই।
জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন শহীদ মিনহাজ আহমেদের ভাই জাকির আহমেদ। তিনি জুলাই শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদানের জন্য লিডিং ইউনিভার্সিটিকে ধন্যবাদ জানান এবং জুলাই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসাসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ মাউন্ট এডোরা হাসপাতালকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। পরিচালক ডা. তানবিরুজ্জামান সম্মাননা গ্রহণ করেন।
একই সঙ্গে জুলাইযোদ্ধাদের স্বীকৃতি, শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা, কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ এবং গ্রাফিতি প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ কবির আহমেদ, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মজিদ মিয়া, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে প্রভাষক মো. সায়দুর রহমান কোহিনুর এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে জুনেদ আহমেদ ও মাহবুবুর রহমান শান্ত।
শেষে জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জিয়াউর রহমান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
























