কুলাউড়ায় টেলিকম দোকানে অনলাইন জুয়ার আসর, র্যাবের অভিযানে আটক ৪
- আপডেট সময় : ১০:৪৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- / 81
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজারে একটি টেলিকম দোকানকে কেন্দ্র করে চলছিল অনলাইন জুয়ার আসর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে র্যাব-৯। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন এই চক্রের মূল হোতা। অভিযানে অনলাইন জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-৯, সিপিসি-২ (শ্রীমঙ্গল) সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫৫ মিনিটে কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার দক্ষিণবাজারে অবস্থিত ব্রাদার্স টেলিকম-এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার ওয়েবসাইটে জুয়া খেলার অভিযোগে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ইউসুফ সদর গ্রামের অজিত আলীর ছেলে মকবুল হোসেন (৩৮), একই ইউনিয়নের মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (২৮), মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোয়েব আহমেদ (৩৮) এবং টিলাগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ বিজলী গ্রামের আলিম উল্লাহর ছেলে আব্দুল বাসিত (৩৬)।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক তদন্তে মকবুল হোসেনকে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রটির মূল সমন্বয়কারী বা হোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযানের সময় জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত একাধিক অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনা করে চক্রটির সঙ্গে আরও কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, র্যাবের দায়ের করা মামলায় আটক চারজনকে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কুলাউড়ায় অনলাইন জুয়াসহ সব ধরনের অবৈধ জুয়া ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে স্মার্টফোন ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে গোপনে জুয়ার বিস্তার ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল সংগঠকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন তারা।


























