০৩:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

কুলাউড়ায় এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ঈদ উপহার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধুম্রজাল তৈরী করার অপচেষ্টা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • / 87
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুলাউড়ায় এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ঈদ উপহার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধুম্রজাল তৈরী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকরা সিনিয়র, জুনিয়র হিসেবে ঈদ সেলামী পেয়েছেন। এই সেলামী সাংবাদিকরা হাসিমুখে গ্রহণ করেছেন। এমপি সাহেব নিজের আত্মপ্রচারের জন্য এটা প্রদান করেননি। তিনি সেলামী নেয়া কোন সাংবাদিকের সাথে ছবিও পর‌্যন্ত তুলেননি। যারা উপহার নিতে গিয়েছেন তাদেরকে সেলামীর পাশাপাশী কুশল বিনিময় করে আপ্যায়নও করিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এই ঈদ সেলামী নিয়ে কোন প্রকার আপত্তি না থাকলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে সাবেক এমপি এম এম শাহিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেলামী পাওয়া ৬২ জন সাংবাদিকের তালিকা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের পক্ষে সাফাই গাইলেও বিজ্ঞজনরা জানিয়েছেন এম এম শাহিন সাহেব পক্ষান্তরে সেলামী পাওয়া সাংবাদিকদের লিষ্ট প্রকাশ করে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের কাছে খাটো করার অপচেষ্ঠা করেছেন।

এদিকে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার পেয়ে আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু এমপি’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুলাউড়ার কর্মরত সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দল-মত নির্বিশেষে কুলাউড়ার তিন প্রেসক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সকল সাংবাদিকদের এই শুভেচ্ছা উপহার দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের কল্যাণার্থে কাজ করার জন্য একটি আধুনিক প্রেসক্লাব ভবনসহ সকল সুবিধা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এমপি। পাশাপাশি কুলাউড়ার তিন প্রেসক্লাব নিয়ে ঐক্যবদ্ধ একটি প্রেসক্লাব গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিকরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে দেশ-সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। কুলাউড়ায় অতীতে অনেকেই সাংবাদিকদের কাঁধে বন্ধুক রেখে নিজেরা ক্ষমতার মসনদে বসে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। নির্বাচন কিংবা নিজেদের বিপদের সময় সাংবাদিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ ভোটের পর একদিনের জন্যও তারা সাংবাদিকদের কোন খোঁজখবর নেননি। এমনকি সাংবাদিকদের কল্যাণে স্থায়ী কোন তহবিল গঠন করেননি। এখন ঈদ উপহার নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তারা কি কোনোদিন সাংবাদিকদের দিকে নজর দিয়েছিলেন। সমালোচনা চাইলেই করা সম্ভব, কিন্তু বাস্তবতা সহজ নয়। বর্তমান এমপি যে শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছেন সেখানে কোনো স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি। সব সাংবাদিকরাই এই উপহার পেয়েছেন। বর্তমান এমপি সাংবাদিকদের খোঁজখবর রাখছেন এবং ভবিষ্যতে আরো কল্যাণকর কাজ করার জন্য প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন।

কয়েকজন জুনিয়র সাংবাদিক বলেন, এমপি সাহেব যে উপহার দিয়েছেন তা খুবই গোপনে এবং সম্মানের সঙ্গে বাসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য কোনো প্রচার চাননি। এমপি সাহেব কারো সাথে ছবিও তুলেননি। গোপনীয় এই তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা খুবই নিন্দনীয় কাজ।

এক প্রতিক্রিয়ায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলী স্টারের সাংবাদিক মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, কুলাউড়ায় যারাই রাজনীতিতে সফলতার গল্প লিখেছেন। সবাই সাংবাদিকদের ব্যবহার করেছেন ঢাল হিসেবে। তৈরি করেছেন বিভিন্ন পক্ষ, নিয়েছেন সুবিধা। অথচ সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন বা জীবনমান উন্নয়নে কিঞ্চিৎ মাত্র ভুমিকা নেই তাদের।

কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও মানবঠিকানার সাবেক বার্তা সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, আমাদের এমপি আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু দল মত নির্বিশেষে সাংবাদিকদের ঈদ উপলক্ষে যদি কিছু উপহার দিয়ে থাকেন সেটা উনার উদার ও সরল মন মানসিকতার পরিচয় বহন করে। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা এই কাজের সমালোচনা করছেন সেটা তাদের নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করা অপচেষ্টা তথা প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ! সাবেক এমপি এম এম শাহীন সাহেব তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য তিনি ও তাঁর নিজস্ব লোককে  দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কুলাউড়ায় এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ঈদ উপহার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধুম্রজাল তৈরী করার অপচেষ্টা

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

কুলাউড়ায় এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ঈদ উপহার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধুম্রজাল তৈরী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিকরা সিনিয়র, জুনিয়র হিসেবে ঈদ সেলামী পেয়েছেন। এই সেলামী সাংবাদিকরা হাসিমুখে গ্রহণ করেছেন। এমপি সাহেব নিজের আত্মপ্রচারের জন্য এটা প্রদান করেননি। তিনি সেলামী নেয়া কোন সাংবাদিকের সাথে ছবিও পর‌্যন্ত তুলেননি। যারা উপহার নিতে গিয়েছেন তাদেরকে সেলামীর পাশাপাশী কুশল বিনিময় করে আপ্যায়নও করিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এই ঈদ সেলামী নিয়ে কোন প্রকার আপত্তি না থাকলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে সাবেক এমপি এম এম শাহিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেলামী পাওয়া ৬২ জন সাংবাদিকের তালিকা প্রকাশ করে সাংবাদিকদের পক্ষে সাফাই গাইলেও বিজ্ঞজনরা জানিয়েছেন এম এম শাহিন সাহেব পক্ষান্তরে সেলামী পাওয়া সাংবাদিকদের লিষ্ট প্রকাশ করে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সমাজের কাছে খাটো করার অপচেষ্ঠা করেছেন।

এদিকে ঈদ শুভেচ্ছা উপহার পেয়ে আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু এমপি’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কুলাউড়ার কর্মরত সাংবাদিকরা।

সাংবাদিকরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দল-মত নির্বিশেষে কুলাউড়ার তিন প্রেসক্লাবের সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সকল সাংবাদিকদের এই শুভেচ্ছা উপহার দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের কল্যাণার্থে কাজ করার জন্য একটি আধুনিক প্রেসক্লাব ভবনসহ সকল সুবিধা নিশ্চিতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এমপি। পাশাপাশি কুলাউড়ার তিন প্রেসক্লাব নিয়ে ঐক্যবদ্ধ একটি প্রেসক্লাব গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, সাংবাদিকরা সবসময় ঝুঁকি নিয়ে দেশ-সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেন। কুলাউড়ায় অতীতে অনেকেই সাংবাদিকদের কাঁধে বন্ধুক রেখে নিজেরা ক্ষমতার মসনদে বসে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। নির্বাচন কিংবা নিজেদের বিপদের সময় সাংবাদিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। অথচ ভোটের পর একদিনের জন্যও তারা সাংবাদিকদের কোন খোঁজখবর নেননি। এমনকি সাংবাদিকদের কল্যাণে স্থায়ী কোন তহবিল গঠন করেননি। এখন ঈদ উপহার নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন তারা কি কোনোদিন সাংবাদিকদের দিকে নজর দিয়েছিলেন। সমালোচনা চাইলেই করা সম্ভব, কিন্তু বাস্তবতা সহজ নয়। বর্তমান এমপি যে শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছেন সেখানে কোনো স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি। সব সাংবাদিকরাই এই উপহার পেয়েছেন। বর্তমান এমপি সাংবাদিকদের খোঁজখবর রাখছেন এবং ভবিষ্যতে আরো কল্যাণকর কাজ করার জন্য প্রদক্ষেপ নিচ্ছেন।

কয়েকজন জুনিয়র সাংবাদিক বলেন, এমপি সাহেব যে উপহার দিয়েছেন তা খুবই গোপনে এবং সম্মানের সঙ্গে বাসায় দাওয়াত দিয়ে নিয়ে দিয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য কোনো প্রচার চাননি। এমপি সাহেব কারো সাথে ছবিও তুলেননি। গোপনীয় এই তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা খুবই নিন্দনীয় কাজ।

এক প্রতিক্রিয়ায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলী স্টারের সাংবাদিক মিন্টু দেশোয়ারা বলেন, কুলাউড়ায় যারাই রাজনীতিতে সফলতার গল্প লিখেছেন। সবাই সাংবাদিকদের ব্যবহার করেছেন ঢাল হিসেবে। তৈরি করেছেন বিভিন্ন পক্ষ, নিয়েছেন সুবিধা। অথচ সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন বা জীবনমান উন্নয়নে কিঞ্চিৎ মাত্র ভুমিকা নেই তাদের।

কুলাউড়া প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও মানবঠিকানার সাবেক বার্তা সম্পাদক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, আমাদের এমপি আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম শকু দল মত নির্বিশেষে সাংবাদিকদের ঈদ উপলক্ষে যদি কিছু উপহার দিয়ে থাকেন সেটা উনার উদার ও সরল মন মানসিকতার পরিচয় বহন করে। এটা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা এই কাজের সমালোচনা করছেন সেটা তাদের নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করা অপচেষ্টা তথা প্রতিহিংসার বহি:প্রকাশ! সাবেক এমপি এম এম শাহীন সাহেব তাঁর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য তিনি ও তাঁর নিজস্ব লোককে  দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।