১১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন Logo আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডে নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক Logo উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্যের ঝলক Logo বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী Logo ডলি বেগমের জয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের অভিনন্দন Logo ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

এক সময়ের দুঃখী কিশোর এখন কোটি মানুষের নেতা

সাইফুর রহমান, দক্ষিণভাগ ::
  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 203
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এদেশের একজন কালজয়ী নেতার নাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা সংগ্রামে যার ছিল অসামান্য অবদান। ছিলেন মাঠের যোদ্ধা, জেড ফোর্সের নেতৃত্বাধীন সেক্টর কমান্ডার। একাত্তরের ২৭শে মার্চ যার স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক। স্বাধীনতা উত্তর এক সংকটময় ক্ষণে প্রায় চার বছরের শাসনামলে সৎ ও নির্লোভ জিয়া রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তা আজও দেশের উন্নয়নের এক শর্টকাট সাজেশন হিসেবে বিবেচিত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ৪৫ বছর বয়সে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার হত্যার মধ্য দিয়ে পরিবারে নেমে আসে নির্মম ও নিদারুণ কষ্টের অবর্ণনীয় দিনগুলো। বাঙালীর নির্লোভ ও সৎ এই শাসক তার নির্মম হত্যাকান্ডের পূর্বে পরিবারের জন্য রেখে যাননি অঢেল কোনো সম্পদ। গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে কাটান জীবনের কঠিন ও কষ্টের সময়। তখকার মরহুম শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সন্তান দুঃখী দুই কিশোরের নাম তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। দুই সন্তানকে নিয়ে মা বেগম খালেদা জিয়ার সাদামাটা জীবন ছিল ইতিহাসে নিদারুণ কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাবার রেখে যাওয়া পোশাক ছোট করে নিজেদের পোশাকের চাহিদা মেটাতেন দুঃখী দুই কিশোর তারেক ও কোকো।

অসহ্য কষ্টে চতুর্মাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানে ৯০য়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বাবা হারা দুই দুঃখী কিশোরের মা বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে হয়ে উঠেন বাঙালির কালজয়ী নেতা। অতঃপর সে অনেক কথা, হলেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা। নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আবারো ওয়াল ইলেভেন সরকারের সময় দেশ ও দেশের রাজনীতি সংকটের মুখে পড়ে। জিয়া পরিবারে নেমে আসে ওয়ান ইলেভেন সরকারের অবর্ণনীয় জুলুম। প্রথমেই আটক হন তারেক রহমান, পরে মা বেগম খালেদা জিয়া। তারেকের উপর কি পরিমাণ নির্যাতন নিপীড়ন করা হয়েছিল তৎকালীন পত্রিকার পাতা খুললে তা সহজেই অনুমেয়। এক পর্যায়ে তার মেরুদন্ডে আঘাত করে হুইল চেয়ারের যাত্রী বানানো হয়।

২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে উন্নত চিকিৎসার জন্য একি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মাতৃভূমি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় ৮ হাজার কি.মি. দূরের দেশ যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যে মানসিক নিপীড়ন নিয়ে ১৮ বছরের কাটানো জীবনে এমন কোনো দিন নেই যে তাকে শুনতে হয়নি জুলাইয়ের পরাজিত শক্তির অকথ্য গালিগালাজ। উনি কোনোদিন দেশে আসবে না, বিএনপির নেতা ও নেতৃত্ব নেই। অচিরেই বিএনপি কালের গহ্বরে বিলীন হয়ে যাবে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী আজগুবি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে যখন নাজিম উদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দী করে কারান্তরীন করা হয় তখন দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তারেক রহমানের ঘাড়ে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে সংবেদনশীল মানসিকতায় ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যেভাবে দলকে ঐকবদ্ধ করে রেখেছেন তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারেক রহমানের অবস্থান দেশের মানুষের কাছে কতটা শক্তিশালী, দেশ ও জনগণের মাঝে তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কতটা তা হয়তো তিনি ফিরে না আসলে আমরা কেউই বুঝে উঠতে পারতাম না।

তার দেশে ফিরে না আসাকে কেন্দ্র করে যে ধূম্রজাল তৈরি করা হয়েছিল বিজয়ের মাস ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তার ফিরে আসায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হলো। তার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজপথে ফিনিক্স পাখির মতো জনতার যে সুনামী সৃষ্টি হয়েছিল তা বিশ্ব ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। যা আমাদেরকে বুঝতে শেখালো এক সময়ের দুঃখী কিশোর এখন কোটি মানুষের নেতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এক সময়ের দুঃখী কিশোর এখন কোটি মানুষের নেতা

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

এদেশের একজন কালজয়ী নেতার নাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতা সংগ্রামে যার ছিল অসামান্য অবদান। ছিলেন মাঠের যোদ্ধা, জেড ফোর্সের নেতৃত্বাধীন সেক্টর কমান্ডার। একাত্তরের ২৭শে মার্চ যার স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক। স্বাধীনতা উত্তর এক সংকটময় ক্ষণে প্রায় চার বছরের শাসনামলে সৎ ও নির্লোভ জিয়া রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তা আজও দেশের উন্নয়নের এক শর্টকাট সাজেশন হিসেবে বিবেচিত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ৪৫ বছর বয়সে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার হত্যার মধ্য দিয়ে পরিবারে নেমে আসে নির্মম ও নিদারুণ কষ্টের অবর্ণনীয় দিনগুলো। বাঙালীর নির্লোভ ও সৎ এই শাসক তার নির্মম হত্যাকান্ডের পূর্বে পরিবারের জন্য রেখে যাননি অঢেল কোনো সম্পদ। গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানকে নিয়ে কাটান জীবনের কঠিন ও কষ্টের সময়। তখকার মরহুম শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া সন্তান দুঃখী দুই কিশোরের নাম তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। দুই সন্তানকে নিয়ে মা বেগম খালেদা জিয়ার সাদামাটা জীবন ছিল ইতিহাসে নিদারুণ কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাবার রেখে যাওয়া পোশাক ছোট করে নিজেদের পোশাকের চাহিদা মেটাতেন দুঃখী দুই কিশোর তারেক ও কোকো।

অসহ্য কষ্টে চতুর্মাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানে ৯০য়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বাবা হারা দুই দুঃখী কিশোরের মা বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে হয়ে উঠেন বাঙালির কালজয়ী নেতা। অতঃপর সে অনেক কথা, হলেন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা। নানা চড়াই-উতরাই পার হয়ে আবারো ওয়াল ইলেভেন সরকারের সময় দেশ ও দেশের রাজনীতি সংকটের মুখে পড়ে। জিয়া পরিবারে নেমে আসে ওয়ান ইলেভেন সরকারের অবর্ণনীয় জুলুম। প্রথমেই আটক হন তারেক রহমান, পরে মা বেগম খালেদা জিয়া। তারেকের উপর কি পরিমাণ নির্যাতন নিপীড়ন করা হয়েছিল তৎকালীন পত্রিকার পাতা খুললে তা সহজেই অনুমেয়। এক পর্যায়ে তার মেরুদন্ডে আঘাত করে হুইল চেয়ারের যাত্রী বানানো হয়।

২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে জীবন বাঁচানোর প্রশ্নে উন্নত চিকিৎসার জন্য একি বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মাতৃভূমি ছেড়ে পাড়ি জমাতে হয় ৮ হাজার কি.মি. দূরের দেশ যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যে মানসিক নিপীড়ন নিয়ে ১৮ বছরের কাটানো জীবনে এমন কোনো দিন নেই যে তাকে শুনতে হয়নি জুলাইয়ের পরাজিত শক্তির অকথ্য গালিগালাজ। উনি কোনোদিন দেশে আসবে না, বিএনপির নেতা ও নেতৃত্ব নেই। অচিরেই বিএনপি কালের গহ্বরে বিলীন হয়ে যাবে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী আজগুবি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে যখন নাজিম উদ্দীন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দী করে কারান্তরীন করা হয় তখন দলের সর্বোচ্চ দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তারেক রহমানের ঘাড়ে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে সংবেদনশীল মানসিকতায় ধৈর্যের সঙ্গে সঠিক নেতৃত্ব দিয়ে তিনি যেভাবে দলকে ঐকবদ্ধ করে রেখেছেন তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। তারেক রহমানের অবস্থান দেশের মানুষের কাছে কতটা শক্তিশালী, দেশ ও জনগণের মাঝে তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা কতটা তা হয়তো তিনি ফিরে না আসলে আমরা কেউই বুঝে উঠতে পারতাম না।

তার দেশে ফিরে না আসাকে কেন্দ্র করে যে ধূম্রজাল তৈরি করা হয়েছিল বিজয়ের মাস ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ তার ফিরে আসায় তা মিথ্যা প্রমাণিত হলো। তার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ঢাকার রাজপথে ফিনিক্স পাখির মতো জনতার যে সুনামী সৃষ্টি হয়েছিল তা বিশ্ব ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। যা আমাদেরকে বুঝতে শেখালো এক সময়ের দুঃখী কিশোর এখন কোটি মানুষের নেতা।