০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা

মৌলভীবাজারের ৩ টি আসনে বিএনপির প্রার্থীতালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 259
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এতে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনে বিপদে পড়তে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মনোনয়নবঞ্চিতদের অনুসারীরা বিভিন্ন আসনে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সভা-সমাবেশ ও শোডাউন করছেন। মনোনয়নবঞ্চিত একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে বিএনপির অন্তত ১২ সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ৩ নভেম্বর মহাসচিব জেলার চারটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া না জানালেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মাঝে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু প্রাথমিকভাবে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসনের দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা ছয় ইউনিয়নভুক্ত জুড়ী উপজেলার অধিবাসী। মনোনয়নবঞ্চিত কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভাভুক্ত বড়লেখা এলাকার বাসিন্দা। বড়লেখা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১১ হাজার ৬৬৮। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীর নিজ উপজেলা জুড়ীতে মোট ভোট এক লাখ ২২ হাজার ২৭২। এ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বড়লেখার বাসিন্দা। ভোটারদের মধ্যে এলাকাপ্রীতি দেখা দিলে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির নেতা  ও আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এএনএম আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. সাইফুল ইসলাম। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শওকতুল ইসলাম শকুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলের পুরোটা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন আবেদ রাজা। তাঁর অনুসারীরা এ আসনে দলের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে ৯ নভেম্বর সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীর অসন্তোষের ফসল ঘরে তুলতে পারেন এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির প্রকৌশলী সাহেদ আলী।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী। তাদের মধ্য থেকে মুজিবুর রহমানকে দলের প্রার্থী করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মহসিন মিয়া মধু। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া মধু বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাই কিংবা না পাই, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
আছি, থাকব।’

মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। এ আসনে বিএনপি নেতাদের কারও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে। তবে নাসের রহমান এ পর্যন্ত জেলা কমিটির নেতাদের নিয়ে কোনো মতবিনিময় সভা না করায় অনেকে নাখোশ বলে জানা গেছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা

মৌলভীবাজারের ৩ টি আসনে বিএনপির প্রার্থীতালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের

আপডেট সময় : ১২:১৪:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ঘোষণার পর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এতে জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা নির্বাচনে বিপদে পড়তে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মনোনয়নবঞ্চিতদের অনুসারীরা বিভিন্ন আসনে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সভা-সমাবেশ ও শোডাউন করছেন। মনোনয়নবঞ্চিত একাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার চারটি আসনে বিএনপির অন্তত ১২ সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ৩ নভেম্বর মহাসচিব জেলার চারটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এতে মনোনয়নবঞ্চিত নেতারা প্রকাশ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া না জানালেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফুঁসছেন।

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর মাঝে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন মিঠু প্রাথমিকভাবে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। এ আসনের দুই উপজেলায় ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা ছয় ইউনিয়নভুক্ত জুড়ী উপজেলার অধিবাসী। মনোনয়নবঞ্চিত কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভাভুক্ত বড়লেখা এলাকার বাসিন্দা। বড়লেখা উপজেলায় ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ১১ হাজার ৬৬৮। অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থীর নিজ উপজেলা জুড়ীতে মোট ভোট এক লাখ ২২ হাজার ২৭২। এ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলাম বড়লেখার বাসিন্দা। ভোটারদের মধ্যে এলাকাপ্রীতি দেখা দিলে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির নেতা  ও আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এএনএম আবেদ রাজা, কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শওকতুল ইসলাম শকু ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী ড. সাইফুল ইসলাম। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে শওকতুল ইসলাম শকুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলের পুরোটা সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন আবেদ রাজা। তাঁর অনুসারীরা এ আসনে দলের মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে ৯ নভেম্বর সমাবেশ ও মোটরসাইকেল শোডাউন করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীর অসন্তোষের ফসল ঘরে তুলতে পারেন এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির প্রকৌশলী সাহেদ আলী।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র জেলা বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী। তাদের মধ্য থেকে মুজিবুর রহমানকে দলের প্রার্থী করা হয়েছে। এদিকে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন মহসিন মিয়া মধু। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া মধু বলেন, ‘দলীয় মনোনয়ন পাই কিংবা না পাই, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
আছি, থাকব।’

মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ নেতা মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। এ আসনে বিএনপি নেতাদের কারও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার শঙ্কা নেই বলে জানা গেছে। তবে নাসের রহমান এ পর্যন্ত জেলা কমিটির নেতাদের নিয়ে কোনো মতবিনিময় সভা না করায় অনেকে নাখোশ বলে জানা গেছে।