০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক Logo কোর্স ফর রোভার মেট সম্পন্ন করলেন সিলেট মুক্ত রোভার স্কাউট গ্রুপের ৮ সদস্য

দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক, সিলেট
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 60
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনের পর তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী দেখেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য উদ্যোগ। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

সীমান্ত নজরদারিতে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে বা জনবলের মাধ্যমে নজরদারি করা কঠিন, সেসব স্থানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে চলাচলকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।

বিজিবির নিজস্ব ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা নিজেরাও ড্রোন অ্যাসেম্বল করছি এবং ভবিষ্যতে এগুলো তৈরি করার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছি। এটি একসময় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি অংশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধার অভিযানসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের কাজে বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে ড্রোন ব্যবহার করেছেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত আধুনিক ড্রোন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির ড্রোনের কিছু নমুনা এখানে রয়েছে। সব ধরনের আধুনিক ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির সমাহার তৈরির চেষ্টা করা হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত বিজিবি সদস্যদের জন্য পরিচালিত হবে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদেরও এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এসব সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৪৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীমান্তের দুর্গম ও জনবল দিয়ে নজরদারি করা কঠিন এলাকাগুলোতে থার্মাল ও নাইট-মিশন সক্ষম ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার, মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনের পর তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী দেখেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজিবির এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনন্য উদ্যোগ। মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে।

সীমান্ত নজরদারিতে প্রযুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব এলাকায় প্রচলিত পদ্ধতিতে বা জনবলের মাধ্যমে নজরদারি করা কঠিন, সেসব স্থানে ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স, নাইট মিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে চলাচলকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি করা হবে।

বিজিবির নিজস্ব ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা নিজেরাও ড্রোন অ্যাসেম্বল করছি এবং ভবিষ্যতে এগুলো তৈরি করার সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছি। এটি একসময় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি অংশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও ড্রোনের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধার অভিযানসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ধরনের কাজে বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যে ড্রোন ব্যবহার করেছেন।

প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রদর্শিত আধুনিক ড্রোন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির ড্রোনের কিছু নমুনা এখানে রয়েছে। সব ধরনের আধুনিক ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তির সমাহার তৈরির চেষ্টা করা হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মূলত বিজিবি সদস্যদের জন্য পরিচালিত হবে। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ অনুযায়ী বেসামরিক নাগরিকদেরও এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য এসব সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।