১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ Logo মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চড়ুইভাতি Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo তৃণমূলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান Logo বড়লেখায় মহিষকাণ্ডে যুবলীগ ও বিএনপি নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বদেশমেইল সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানের মতবিনিময় Logo জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে দাসের বাজারে দুই শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীর বাসায় আগুন, পুড়ে ছাই দুই ঘর Logo প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত, রাজধানীর বসিলায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 85
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এদিন ভোররাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ওই রাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়সহ মোট ২৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঘাতকদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের। এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও হত্যা করা হয়।

একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালানো হয়। সেখানে তাকে ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবারও ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করে।

প্রতি বছর জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে এবং বনানী কবরস্থানে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ, দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হতো।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি ভাঙচুরের শিকার হয়। এরপর থেকে সেখানে আগের মতো শোক কর্মসূচি পালনের সুযোগ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২০২৫ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই বছরের ২৩ অক্টোবর দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

গত বছর ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছিল। চলতি বছরও দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শোক জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ

আপডেট সময় : ০৬:৫০:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

আজ ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এদিন ভোররাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

ওই রাতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়সহ মোট ২৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। তবে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঘাতকদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল এবং বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের। এছাড়া বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও হত্যা করা হয়।

একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালানো হয়। সেখানে তাকে ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবারও ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করে।

প্রতি বছর জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে এবং বনানী কবরস্থানে নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদ, দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হতো।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি ভাঙচুরের শিকার হয়। এরপর থেকে সেখানে আগের মতো শোক কর্মসূচি পালনের সুযোগ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বাড়িটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচার কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ২০২৫ সালের ১০ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই বছরের ২৩ অক্টোবর দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

গত বছর ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছিল। চলতি বছরও দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শোক জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন।