০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট! Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি Logo জুড়ীতে প্রধান শিক্ষক নিখোঁজ, মোটরসাইকেল ও জামাকাপড় উদ্ধার Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার Logo শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু, শেষ সময় ২৭ এপ্রিল Logo সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, বড়লেখা-জুড়ীতে উচ্ছ্বাস Logo কুলাউড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখায় ছাত্রশিবিরের দোয়া মাহফিল

প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ ছিলো ট্রেন

কুলাউড়ায় যাত্রীদের সাথে সহকারী স্টেশন মাস্টারের অসৌজন্যমূলক আচরণ 

মো. মহিউদ্দিন, কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০২:৪২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 330
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সহকারী স্টেশন মাস্টারের (এএসএম) কামাল হোসেন কর্তৃক যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রীদের সাথে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ট্রেনের সময় জিজ্ঞেস করায় এবং ওয়েটিং রুম খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ট্রেন বন্ধের ঘোষণা দিলে প্লাটফর্মে থাকা শত শত যাত্রী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা সহকারী স্টেশন মাষ্টারের এ ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনে কয়েকজন যাত্রী শৌচাগারের চাবি ও ট্রেনের সময়সূচি জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. কামাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি টেলিফোনের রিসিভার ছুড়ে মারেন, যাত্রীদের দিকে তেড়ে আসেন এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এসব কারনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস কুলাউড়া স্টেশনে পৌনে ২ ঘন্টা আটকা পড়ে। পরে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং ১ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কুলাউড়ার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা শফিক আহমদ বলেন, “সহকারী স্টেশন মাস্টার কামাল হোসেন মূলত আওয়ামীলীগের দোসর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। তার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

প্রেসক্লাব সভাপতি আজিজুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, “কামাল সাহেবের আচরণ দেখে আমাদের মনে হচ্ছিলো যেন রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেনগুলো তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য।”

কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই বলেন, “আমরা ট্রেনের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছি। সে সময়ও কামাল হোসেন আমাদের চরমভাবে হুমকি দেন। এতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রোমান আহমেদ বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শিগগিরই বিষয়টি সুরাহা হবে।”

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন জানান, স্টেশনের এ পরিস্থিতি শুনে স্টেশনে ছুটে আসি এবং যাত্রী ও স্টেশনে দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। বড় মাষ্টারসহ সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ ছিলো ট্রেন

কুলাউড়ায় যাত্রীদের সাথে সহকারী স্টেশন মাস্টারের অসৌজন্যমূলক আচরণ 

আপডেট সময় : ০২:৪২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সহকারী স্টেশন মাস্টারের (এএসএম) কামাল হোসেন কর্তৃক যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রীদের সাথে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে উপস্থিত যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ট্রেনের সময় জিজ্ঞেস করায় এবং ওয়েটিং রুম খুলে দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি যাত্রীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ট্রেন বন্ধের ঘোষণা দিলে প্লাটফর্মে থাকা শত শত যাত্রী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা সহকারী স্টেশন মাষ্টারের এ ধরনের কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে কুলাউড়া রেলওয়ে জংশনে কয়েকজন যাত্রী শৌচাগারের চাবি ও ট্রেনের সময়সূচি জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. কামাল হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি টেলিফোনের রিসিভার ছুড়ে মারেন, যাত্রীদের দিকে তেড়ে আসেন এবং ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এসব কারনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস কুলাউড়া স্টেশনে পৌনে ২ ঘন্টা আটকা পড়ে। পরে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং ১ ঘন্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কুলাউড়ার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা শফিক আহমদ বলেন, “সহকারী স্টেশন মাস্টার কামাল হোসেন মূলত আওয়ামীলীগের দোসর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন। এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। তার বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।”

প্রেসক্লাব সভাপতি আজিজুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষায়, “কামাল সাহেবের আচরণ দেখে আমাদের মনে হচ্ছিলো যেন রেলওয়ে স্টেশন ও ট্রেনগুলো তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য।”

কুলাউড়া ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান আখই বলেন, “আমরা ট্রেনের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছি। সে সময়ও কামাল হোসেন আমাদের চরমভাবে হুমকি দেন। এতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।”

এ বিষয়ে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রোমান আহমেদ বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শিগগিরই বিষয়টি সুরাহা হবে।”

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন জানান, স্টেশনের এ পরিস্থিতি শুনে স্টেশনে ছুটে আসি এবং যাত্রী ও স্টেশনে দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। বড় মাষ্টারসহ সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করা হবে।