০২:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত Logo আজ ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর Logo এনসিপির ওপর হামলায় নিন্দা ইসলামপন্থী দলগুলোর, নীরব জামায়াত Logo নজরুল একাডেমী সিলেটের ৬১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন Logo জুড়ীতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির বার্ষিক পরিকল্পনা কর্মশালা Logo কুলাউড়ায় সরকারি বীজ বিক্রির সময় ২৪ বস্তা জব্দ, বিক্রেতার কারাদণ্ড Logo বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন Logo অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার আর নেই Logo শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: চবি উপাচার্য

প্রযুক্তির যুগেও ঐতিহ্যের দৃঢ় অবস্থান

খড় কাপড়ে মোড়া এক নীরব পাহারাদার – কাকতাড়ুয়া

আফজাল হোসেন রুমেল :
  • আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • / 170

বড়লেখা উপজেলা দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গজভাগ থেকে তুলা ছবি, ছবি : এমরান আহমদ ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি খাতে বিপ্লব আনলেও বাংলার মাটিতে এখনো টিকে আছে কিছু ঐতিহ্যবাহী চর্চা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘কাকতাড়ুয়া’। প্রাচীনকালের মতো আজও মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার হাওরাঞ্চলের ফসলের মাঠে তাকালেই দেখা যায় খোলা মাঠে বুক টান করে দাঁড়িয়ে আছে কাকতাড়ুয়া। মনে হয় এ যেন প্রাকৃতিক পাহারাদার।

সদ্য গজিয়ে ওঠা কচি শসার খেত কিংবা তাজা ধানের গন্ধে ভরা কৃষিজমি পশু-পাখির সহজ টার্গেট। আর এসব শত্রু থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকের ভরসা সেই পুরোনো কৌশল, কাকতাড়ুয়া। আদতে কাকতাড়ুয়া হলো মানুষের আকৃতিসদৃশ একটি প্রতিকৃতি, যা পশু-পাখিকে ভয় দেখিয়ে খেত থেকে দূরে রাখতে সহায়ক। বাঁশ, খড়, পুরোনো কাপড়, দড়ি এবং একটি মাটির হাঁড়ি দিয়ে তৈরি এই কাকতাড়ুয়ার মুখে কয়লার আঁচড়ে আঁকা থাকে চোখ, নাক ও মুখ। অনেক ক্ষেত্রেই তাকে পরানো হয় পুরোনো শার্ট বা গেঞ্জি, যাতে দূর থেকে তাকে মানুষের মতোই দেখায়।

তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সি কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘আমার শসার জমিতে পাখি আর শিয়ালের উপদ্রব ছিল খুব বেশি। কচি শসা বেশি মিষ্টি হয়, তাই এগুলো খেয়ে ফেলছিল। তাই কাকতাড়ুয়া লাগিয়েছি ভয় দেখানোর জন্য।’

তিনিসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেকেই বলেন, কাকতাড়ুয়া যেন একধরনের ফাঁদ, তবে সেই ফাঁদ ধরার জন্য নয়, বরং ভয় দেখানোর জন্য। অনেক সময় কাকতাড়ুয়ার পাশে মরা কাক ঝুলিয়েও রাখা হয়, যেন কাকগুলো আরও ভয় পায়।

বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন ষাটমাকন্ঠকে বলেন, কাকতাড়ুয়া ফসল রক্ষার একটি প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। প্রাচীন মিশর থেকেই মানবাকৃতির মডেল ব্যবহার করে পাখি ও চোর তাড়ানোর প্রচলন রয়েছে। এখনো বীজ বপনের সময় বা ধান পাকার মৌসুমে পাখির উপদ্রব কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মিল রেখে অনেক কৃষক এখন ব্লুটুথ বা ওয়্যারলেস ডিভাইস ব্যবহার করে দূর থেকে শব্দ সৃষ্টি করে পাখি তাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ফজরের পর ও আসরের পর পাখির আক্রমণ বেশি হয় এই সময়ে কাকতাড়ুয়া বা শব্দ ডিভাইস খুব কার্যকর। এর ব্যবহার বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাখি তাড়ানো সহজ হবে এবং কৃষকদের ফসল ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

কাকতাড়ুয়া শুধু একটি ভয় দেখানোর পদ্ধতি নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের একটি সাংস্কৃতিক নিদর্শন। হয়তো আগামী দিনে আরও উন্নত প্রযুক্তি এসে এই সনাতন কৌশলকে মুছে দেবে, কিন্তু বাংলার মাটিতে এখনো যে কৃষকেরা বিশ্বাস করেন- খেতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানবাকৃতি ‘চুপচাপ পাহারা দিচ্ছে তার শ্রমের ফসল’, তাই কাকতাড়ুয়া আজও শুধু মাঠ নয়, মনও পাহারা দেয়।।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রযুক্তির যুগেও ঐতিহ্যের দৃঢ় অবস্থান

খড় কাপড়ে মোড়া এক নীরব পাহারাদার – কাকতাড়ুয়া

আপডেট সময় : ০৩:০৩:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

আধুনিক প্রযুক্তি কৃষি খাতে বিপ্লব আনলেও বাংলার মাটিতে এখনো টিকে আছে কিছু ঐতিহ্যবাহী চর্চা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘কাকতাড়ুয়া’। প্রাচীনকালের মতো আজও মৌলভীবাজারের বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার হাওরাঞ্চলের ফসলের মাঠে তাকালেই দেখা যায় খোলা মাঠে বুক টান করে দাঁড়িয়ে আছে কাকতাড়ুয়া। মনে হয় এ যেন প্রাকৃতিক পাহারাদার।

সদ্য গজিয়ে ওঠা কচি শসার খেত কিংবা তাজা ধানের গন্ধে ভরা কৃষিজমি পশু-পাখির সহজ টার্গেট। আর এসব শত্রু থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকের ভরসা সেই পুরোনো কৌশল, কাকতাড়ুয়া। আদতে কাকতাড়ুয়া হলো মানুষের আকৃতিসদৃশ একটি প্রতিকৃতি, যা পশু-পাখিকে ভয় দেখিয়ে খেত থেকে দূরে রাখতে সহায়ক। বাঁশ, খড়, পুরোনো কাপড়, দড়ি এবং একটি মাটির হাঁড়ি দিয়ে তৈরি এই কাকতাড়ুয়ার মুখে কয়লার আঁচড়ে আঁকা থাকে চোখ, নাক ও মুখ। অনেক ক্ষেত্রেই তাকে পরানো হয় পুরোনো শার্ট বা গেঞ্জি, যাতে দূর থেকে তাকে মানুষের মতোই দেখায়।

তালিমপুর ইউনিয়নের হাল্লা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সি কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘আমার শসার জমিতে পাখি আর শিয়ালের উপদ্রব ছিল খুব বেশি। কচি শসা বেশি মিষ্টি হয়, তাই এগুলো খেয়ে ফেলছিল। তাই কাকতাড়ুয়া লাগিয়েছি ভয় দেখানোর জন্য।’

তিনিসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেকেই বলেন, কাকতাড়ুয়া যেন একধরনের ফাঁদ, তবে সেই ফাঁদ ধরার জন্য নয়, বরং ভয় দেখানোর জন্য। অনেক সময় কাকতাড়ুয়ার পাশে মরা কাক ঝুলিয়েও রাখা হয়, যেন কাকগুলো আরও ভয় পায়।

বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন ষাটমাকন্ঠকে বলেন, কাকতাড়ুয়া ফসল রক্ষার একটি প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। প্রাচীন মিশর থেকেই মানবাকৃতির মডেল ব্যবহার করে পাখি ও চোর তাড়ানোর প্রচলন রয়েছে। এখনো বীজ বপনের সময় বা ধান পাকার মৌসুমে পাখির উপদ্রব কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মিল রেখে অনেক কৃষক এখন ব্লুটুথ বা ওয়্যারলেস ডিভাইস ব্যবহার করে দূর থেকে শব্দ সৃষ্টি করে পাখি তাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ফজরের পর ও আসরের পর পাখির আক্রমণ বেশি হয় এই সময়ে কাকতাড়ুয়া বা শব্দ ডিভাইস খুব কার্যকর। এর ব্যবহার বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাখি তাড়ানো সহজ হবে এবং কৃষকদের ফসল ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

কাকতাড়ুয়া শুধু একটি ভয় দেখানোর পদ্ধতি নয়, এটি গ্রামীণ জীবনের একটি সাংস্কৃতিক নিদর্শন। হয়তো আগামী দিনে আরও উন্নত প্রযুক্তি এসে এই সনাতন কৌশলকে মুছে দেবে, কিন্তু বাংলার মাটিতে এখনো যে কৃষকেরা বিশ্বাস করেন- খেতে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মানবাকৃতি ‘চুপচাপ পাহারা দিচ্ছে তার শ্রমের ফসল’, তাই কাকতাড়ুয়া আজও শুধু মাঠ নয়, মনও পাহারা দেয়।।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর