০৯:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিলুপ্তির পথে রানী মাছ, অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ Logo মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা Logo কুলাউড়া পৌর মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন বাচ্চুর Logo কুলাউড়ায় স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে ব্লেড: পরিকল্পিত ঘটনার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন Logo কমলগঞ্জের ফুলবাড়ি চা-বাগানে উদ্ধার বিশালাকৃতির অজগর Logo নিউইয়র্কে বড়লেখা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত Logo বড়লেখায় শিক্ষক ও ছাত্রী পালাতক : এলাকায় চাঞ্চল্য ও নানা গুঞ্জন Logo দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি Logo উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে চলছে সরকার : এমপি শওকতুল ইসলাম Logo বড়লেখায় এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

বিলুপ্তির পথে রানী মাছ, অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

রেদওয়ান আহমদ রুম্মান
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 7
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
একসময় দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ও জলাভূমিতে সহজেই দেখা মিলত দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু রাণি মাছের। গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে মাছটি ছিল পরিচিত ও জনপ্রিয়। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণে রাণি মাছ বিক্রি হতো। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক জলাশয় হারিয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দূষণ এবং নির্বিচারে মাছ আহরণের কারণে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে রাণি মাছের সংখ্যা। ফলে একসময় সহজলভ্য এই দেশীয় মাছ এখন অনেক এলাকায় প্রায় বিলুপ্তির পথে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কয়েকজন জেলে জানান, কয়েক বছর আগেও নদী ও হাওরে জাল ফেললেই রাণি মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু বর্তমানে একই জলাশয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাছ ধরেও অনেক সময় একটি রাণি মাছের দেখা পাওয়া যায় না। স্থানীয় বাজারেও আগের মতো এ মাছ আর চোখে পড়ে না। কোনো কোনো বাজারে মাঝে মধ্যে অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তারা আরোও জানান, প্রজনন মৌসুমে ছোট আকারের মাছ নির্বিচারে ধরা, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে রাণি মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, জলাশয় ভরাট এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও এ মাছের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৎস্যজীবী মিলন রাজু বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ শুধু খাদ্যের উৎস নয়, বরং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাণি মাছের মতো দেশীয় প্রজাতি হারিয়ে গেলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এই মাছকে শুধু বইয়ের পাতায় বা ছবিতেই দেখতে পাবে।
শিক্ষক এবং লেখক সৌরভ চন্দ্র দেব বলেন, রাণি মাছ একটি দেশীয় প্রজাতির মাছ। এই মাছ  সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, নদী-খাল পুনঃখনন এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।
বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজাল বলেন, “রানী মাছ বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলা এবং ছোট মাছ নির্বিচারে আহরণ করা। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফিশিং জালের মাধ্যমে পোনা ও ছোট আকারের মাছ ধরার প্রবণতা এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে মাছের নিরাপদ আবাসস্থল বা অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে রানী মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।” দেশীয় মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জেলে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাহলেই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা রাণি মাছসহ অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
রেদওয়ান / ষাটমাকন্ঠ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিলুপ্তির পথে রানী মাছ, অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৮:১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
একসময় দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর ও জলাভূমিতে সহজেই দেখা মিলত দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু রাণি মাছের। গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে মাছটি ছিল পরিচিত ও জনপ্রিয়। বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণে রাণি মাছ বিক্রি হতো। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক জলাশয় হারিয়ে যাওয়া, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দূষণ এবং নির্বিচারে মাছ আহরণের কারণে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে রাণি মাছের সংখ্যা। ফলে একসময় সহজলভ্য এই দেশীয় মাছ এখন অনেক এলাকায় প্রায় বিলুপ্তির পথে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কয়েকজন জেলে জানান, কয়েক বছর আগেও নদী ও হাওরে জাল ফেললেই রাণি মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু বর্তমানে একই জলাশয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাছ ধরেও অনেক সময় একটি রাণি মাছের দেখা পাওয়া যায় না। স্থানীয় বাজারেও আগের মতো এ মাছ আর চোখে পড়ে না। কোনো কোনো বাজারে মাঝে মধ্যে অল্প পরিমাণে পাওয়া গেলেও দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তারা আরোও জানান, প্রজনন মৌসুমে ছোট আকারের মাছ নির্বিচারে ধরা, অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে রাণি মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নদী ও খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, জলাশয় ভরাট এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও এ মাছের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মৎস্যজীবী মিলন রাজু বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ শুধু খাদ্যের উৎস নয়, বরং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাণি মাছের মতো দেশীয় প্রজাতি হারিয়ে গেলে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। তাই এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো এই মাছকে শুধু বইয়ের পাতায় বা ছবিতেই দেখতে পাবে।
শিক্ষক এবং লেখক সৌরভ চন্দ্র দেব বলেন, রাণি মাছ একটি দেশীয় প্রজাতির মাছ। এই মাছ  সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ, নদী-খাল পুনঃখনন এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে দেশীয় মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার করতে হবে।
বড়লেখা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মিসবাহ উদ্দিন আফজাল বলেন, “রানী মাছ বিলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে নদী-নালা, খাল-বিল সেচ দিয়ে শুকিয়ে ফেলা এবং ছোট মাছ নির্বিচারে আহরণ করা। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ফিশিং জালের মাধ্যমে পোনা ও ছোট আকারের মাছ ধরার প্রবণতা এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে মাছের নিরাপদ আবাসস্থল বা অভয়াশ্রম গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে রানী মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।” দেশীয় মাছের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জেলে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাহলেই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা রাণি মাছসহ অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
রেদওয়ান / ষাটমাকন্ঠ