০৮:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট! Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি Logo জুড়ীতে প্রধান শিক্ষক নিখোঁজ, মোটরসাইকেল ও জামাকাপড় উদ্ধার Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার Logo শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু, শেষ সময় ২৭ এপ্রিল

জুড়ীতে বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে ৩৩৫ হাঁসের মৃত্যু: নিঃস্ব খামারি চেরাগ আলী

খোর্শেদ আলম, জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 79
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে এক খামারির হাঁসের খামারে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। জলমগ্ন জমিতে খাবার খেতে নেমে একসঙ্গে মারা গেছে ৩৩৫টি হাঁস। নিঃস্ব হয়ে পড়া খামারি চেরাগ আলী চোখের পানি সামলাতে সামলাতে বলেন, “এই হাঁসগুলাই ছিল আমার সম্বল। এত আদর যত্নে বড় করছি। বিষ খাইয়া হাঁসগুলা মরায় আমার সবশেষ হইয়া গেল।”

চেরাগ আলীর বয়স ৬৫। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি হাঁস পালন করছেন। তাঁর খামারে দেশি প্রজাতির প্রায় ৫০০ হাঁস ছিল—এর মধ্যে কিছু নিয়মিত ডিম দিত এবং কিছু অচিরেই ডিম পাড়া শুরু করার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি হাঁসগুলোকে গ্রামের পাশের জলাবদ্ধ জায়গায় ছেড়ে রেখে বোরো ধানের বীজতলার কাজে দূরে যান। বিকেলে ফিরে এসে দেখেন পানিতে ভাসছে অসংখ্য হাঁসের মৃতদেহ।

এলাকাটি ‘গোবিন্দপুরের জাওর’ নামে পরিচিত। শুষ্ক মৌসুমে এখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর স্থানীয় মফিজ আলীসহ কয়েকজন এই জলাশয় ইজারা নিয়েছেন।

চেরাগ আলী জানান, জমির ধারে ছড়ানো ধানের দানা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়—হাঁসগুলো বিষমেশানো ধান খেয়েই মারা গেছে। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেদিন সব হাঁস তুলতে পারেননি। বাড়িতে আনার পর আরও কয়েকটি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি তেঁতুলের রস খাইয়ে সেগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

চেরাগ আলীর হিসাব অনুযায়ী, তাঁর ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনায় তিনি জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

প্রতিবেশী ফয়জুর রহমান, আবদুস সামাদসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শীতের শুরুতে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি এলেও গোবিন্দপুর জাওরে সাধারণত পাখি দেখা যায় না। তাঁদের ধারণা—পাখি নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই হাঁস নিধনের উদ্দেশ্যে বিষ ছড়ানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে, ইজারাদার মফিজ আলী দাবি করেন—তাঁরা কয়েকদিন ধরে অন্য বিলে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চেরাগ আলীর ভাঙা স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া পরিশ্রম আর অদৃশ্য শত্রুর বিষধান এখন গোবিন্দপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

নিউজটি শেয়ার করুন

জুড়ীতে বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে ৩৩৫ হাঁসের মৃত্যু: নিঃস্ব খামারি চেরাগ আলী

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে এক খামারির হাঁসের খামারে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। জলমগ্ন জমিতে খাবার খেতে নেমে একসঙ্গে মারা গেছে ৩৩৫টি হাঁস। নিঃস্ব হয়ে পড়া খামারি চেরাগ আলী চোখের পানি সামলাতে সামলাতে বলেন, “এই হাঁসগুলাই ছিল আমার সম্বল। এত আদর যত্নে বড় করছি। বিষ খাইয়া হাঁসগুলা মরায় আমার সবশেষ হইয়া গেল।”

চেরাগ আলীর বয়স ৬৫। প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি হাঁস পালন করছেন। তাঁর খামারে দেশি প্রজাতির প্রায় ৫০০ হাঁস ছিল—এর মধ্যে কিছু নিয়মিত ডিম দিত এবং কিছু অচিরেই ডিম পাড়া শুরু করার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিদিনের মতো তিনি হাঁসগুলোকে গ্রামের পাশের জলাবদ্ধ জায়গায় ছেড়ে রেখে বোরো ধানের বীজতলার কাজে দূরে যান। বিকেলে ফিরে এসে দেখেন পানিতে ভাসছে অসংখ্য হাঁসের মৃতদেহ।

এলাকাটি ‘গোবিন্দপুরের জাওর’ নামে পরিচিত। শুষ্ক মৌসুমে এখানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে মাছ ধরার জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ বছর স্থানীয় মফিজ আলীসহ কয়েকজন এই জলাশয় ইজারা নিয়েছেন।

চেরাগ আলী জানান, জমির ধারে ছড়ানো ধানের দানা দেখে তাঁর সন্দেহ হয়—হাঁসগুলো বিষমেশানো ধান খেয়েই মারা গেছে। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় সেদিন সব হাঁস তুলতে পারেননি। বাড়িতে আনার পর আরও কয়েকটি হাঁস অসুস্থ হয়ে পড়ে। তিনি তেঁতুলের রস খাইয়ে সেগুলো বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

চেরাগ আলীর হিসাব অনুযায়ী, তাঁর ক্ষতির পরিমাণ লক্ষাধিক টাকা। ঘটনায় তিনি জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

প্রতিবেশী ফয়জুর রহমান, আবদুস সামাদসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শীতের শুরুতে হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন জলাশয়ে পরিযায়ী পাখি এলেও গোবিন্দপুর জাওরে সাধারণত পাখি দেখা যায় না। তাঁদের ধারণা—পাখি নয়, ইচ্ছাকৃতভাবেই হাঁস নিধনের উদ্দেশ্যে বিষ ছড়ানো হয়েছে। তাঁরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অন্যদিকে, ইজারাদার মফিজ আলী দাবি করেন—তাঁরা কয়েকদিন ধরে অন্য বিলে মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁদের কোনো ধারণা নেই।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মুরশেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চেরাগ আলীর ভাঙা স্বপ্ন, হারিয়ে যাওয়া পরিশ্রম আর অদৃশ্য শত্রুর বিষধান এখন গোবিন্দপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।