১২:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নিজের মাথায় গুলি করে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা, ভিডিও ভাইরাল Logo বড়লেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি, অতঃপর যা ঘটলো Logo সংস্কৃতির মিলনমেলায় মুখর নটমণ্ডপ প্রাঙ্গণ Logo কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন Logo আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডে নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক Logo উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্যের ঝলক Logo বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ইসরায়েলি বোমায় গাজার নামকরা শিক্ষক মাটিতে মিশে গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 63

গাজার ইংরেজি শিক্ষক গাদা রাবাহ। ছবি: এক্স

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজার পশ্চিমাঞ্চলে আল-মালিয়া রাউন্ড অ্যাবাউটের কাছে বসবাস করতেন ইংরেজি শিক্ষিকা গাদা রাবাহ ও তাঁর ভাই হুসাম। কয়েক দিন আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁদের বাড়িটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত অবস্থায় রাবাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধার সহায়তার আবেদনও করেছিলেন।

কিন্তু তিন দিন পর যখন সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন দেখা যায়-বাড়িটিতে আবারও আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি বোমা। দ্বিতীয়বারের আঘাতে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে রাবাহ কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, ‘টানা কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর আমাদের দল ফিরে এসেছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গাদা রাবাহ বা তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের আমরা খুঁজে পাইনি। বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, এই এলাকাটি আগেও ভয়াবহ হামলার সাক্ষী হয়েছিল। এখানেই যুদ্ধের শুরুতে ছোট্ট শিশু হিন্দ রাজাব ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল।

গাদা রাবাহর ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই লিখেছেন, এটি গাজার হাজারো মানুষের অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি-যারা ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে বাড়িঘর হারিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা রয়েছে-গাদা রাবাহ কেবল শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা। ইংরেজি শিক্ষা দিয়ে তিনি তাদের জ্ঞানের আলোয় উজ্জীবিত করেছেন, আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন। তাঁর অনেক ছাত্রছাত্রী বিদেশে স্কলারশিপ পেয়েছেন। গাজা থেকে বের হওয়ার জন্য বিদেশে স্কলারশিপ ছিল অন্যতম একটি উপায়।

তবে রাবাহ চাইতেন, শিক্ষার্থীরা বিদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও গাজায় ফিরে যাক এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করুক, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হোক।

আরও লেখা হয়েছে-গাদা রাবাহকে ইসরায়েল হত্যা করেছে। কিন্তু তাঁর স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। তিনি যে মুক্ত ফিলিস্তিনের স্বপ্ন দেখতেন-যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে শিখবে, বড় হবে এবং বিশ্বকে জানাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, সেই স্বপ্নই এখন গাজার মানুষের লড়াইয়ের প্রেরণা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি বোমায় গাজার নামকরা শিক্ষক মাটিতে মিশে গেছেন

আপডেট সময় : ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজার পশ্চিমাঞ্চলে আল-মালিয়া রাউন্ড অ্যাবাউটের কাছে বসবাস করতেন ইংরেজি শিক্ষিকা গাদা রাবাহ ও তাঁর ভাই হুসাম। কয়েক দিন আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাঁদের বাড়িটি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত অবস্থায় রাবাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্ধার সহায়তার আবেদনও করেছিলেন।

কিন্তু তিন দিন পর যখন সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন দেখা যায়-বাড়িটিতে আবারও আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি বোমা। দ্বিতীয়বারের আঘাতে বাড়িটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে রাবাহ কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, ‘টানা কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর আমাদের দল ফিরে এসেছে। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, গাদা রাবাহ বা তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের আমরা খুঁজে পাইনি। বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’

মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, এই এলাকাটি আগেও ভয়াবহ হামলার সাক্ষী হয়েছিল। এখানেই যুদ্ধের শুরুতে ছোট্ট শিশু হিন্দ রাজাব ইসরায়েলি আগ্রাসনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল।

গাদা রাবাহর ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই লিখেছেন, এটি গাজার হাজারো মানুষের অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি-যারা ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে বাড়িঘর হারিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা রয়েছে-গাদা রাবাহ কেবল শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা। ইংরেজি শিক্ষা দিয়ে তিনি তাদের জ্ঞানের আলোয় উজ্জীবিত করেছেন, আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছেন। তাঁর অনেক ছাত্রছাত্রী বিদেশে স্কলারশিপ পেয়েছেন। গাজা থেকে বের হওয়ার জন্য বিদেশে স্কলারশিপ ছিল অন্যতম একটি উপায়।

তবে রাবাহ চাইতেন, শিক্ষার্থীরা বিদেশ থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও গাজায় ফিরে যাক এবং নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করুক, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার হোক।

আরও লেখা হয়েছে-গাদা রাবাহকে ইসরায়েল হত্যা করেছে। কিন্তু তাঁর স্বপ্নকে হত্যা করতে পারেনি। তিনি যে মুক্ত ফিলিস্তিনের স্বপ্ন দেখতেন-যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে শিখবে, বড় হবে এবং বিশ্বকে জানাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা, সেই স্বপ্নই এখন গাজার মানুষের লড়াইয়ের প্রেরণা।