০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে

কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 217
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসার নামে জাল অফার লেটার দেখিয়ে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ফতেহপুরের বাসিন্দা নাসির আহমদ শাহীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদরের নাদামপুরের বাসিন্দা রহিম চৌধুরী মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এই মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি মামলার তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে।

মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন— একই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রুয়েজ আহমদ, টিবি হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা সুহেনা সুলতানা ও সিলেটের ওসমানীনগরের চানপুরের সায়েম আহমদ।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে গত ৩০ মার্চ ওই মামলাটি করেন রহিম চৌধুরী।

তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের ভাগনে সায়েম আহমদের মাধ্যমে কেয়ার ভিসায় লোক নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। শাহীন ভিসার জন্য ১৮ হাজার পাউন্ড দাবি করেন। আলোচনার মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে ভিসা দেওয়ার কথা। চুক্তিমতো ১৮ হাজার পাউন্ড তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। শাহীনের আত্মীয় সুহেনা দেশে টাকা গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ, ১০ লাখ, সাত লাখ ও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাদীর বোনও দেন দেড় হাজার পাউন্ড।

রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিন মাসের মধ্যে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা ছিল তাঁকে। নাসির আহমদ শাহীন সে দেশ থেকে একটি অফার লেটার প্রেরণ করেন। পরে তারা জানতে পারেন সেটি জাল। ফলে ভিসা হয়নি। আবার রিভিউ করার জন্য সাত মাস সময় নেন। সেই সময়ের মধ্যেও ভিসা করাতে পারেননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তারা সময় ক্ষেপণ এবং এক পর্যায়ে তা অস্বীকার করেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে টাকা দাবি করলে প্রাণে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় বলে রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন।

বাদী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট নম্বরে (যা তার আপন বোন ও ভাগনার নামে) আমি টাকা দিয়েছি। যার যথাযথ প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। পুরো লেনদেনটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের কথামতো হয়েছে।

রহিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নাসির আহমদ শাহীন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুক্তরাজ্য সভাপতি বলে শুনেছি। তিনি আমাকে অনেক হয়রানি করছেন। আমি তার কারণে চরম পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে নাসির আহমদ শাহীন গণমাধ্যমকে জানান যে, ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত নন; বিষয়টি তাঁর ভাগনে দেখাশোনা করে। তিনি আরও বলেন, রহিম চৌধুরী কেয়ার ভিসার জন্য হাসপাতাল থেকে যে সনদ প্রদান করেন, সেটি সঠিক না হওয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি তা দেখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় তাঁকে মামলার আসামি করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে

কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১০:১২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যে কেয়ার ভিসার নামে জাল অফার লেটার দেখিয়ে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে যুক্তরাজ্য স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি, ফতেহপুরের বাসিন্দা নাসির আহমদ শাহীনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার সদরের নাদামপুরের বাসিন্দা রহিম চৌধুরী মৌলভীবাজারের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে এই মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি মামলার তথ্যটি প্রকাশ্যে আসে।

মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন— একই জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রুয়েজ আহমদ, টিবি হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা সুহেনা সুলতানা ও সিলেটের ওসমানীনগরের চানপুরের সায়েম আহমদ।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে গত ৩০ মার্চ ওই মামলাটি করেন রহিম চৌধুরী।

তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন- যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের ভাগনে সায়েম আহমদের মাধ্যমে কেয়ার ভিসায় লোক নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়। শাহীন ভিসার জন্য ১৮ হাজার পাউন্ড দাবি করেন। আলোচনার মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে ভিসা দেওয়ার কথা। চুক্তিমতো ১৮ হাজার পাউন্ড তথা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। শাহীনের আত্মীয় সুহেনা দেশে টাকা গ্রহণ করেন। ২০২৩ সালের বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ, ১০ লাখ, সাত লাখ ও তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাদীর বোনও দেন দেড় হাজার পাউন্ড।

রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন, তিন মাসের মধ্যে কেয়ার ভিসায় যুক্তরাজ্যে নেওয়ার কথা ছিল তাঁকে। নাসির আহমদ শাহীন সে দেশ থেকে একটি অফার লেটার প্রেরণ করেন। পরে তারা জানতে পারেন সেটি জাল। ফলে ভিসা হয়নি। আবার রিভিউ করার জন্য সাত মাস সময় নেন। সেই সময়ের মধ্যেও ভিসা করাতে পারেননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে তারা সময় ক্ষেপণ এবং এক পর্যায়ে তা অস্বীকার করেন। তাছাড়া ভবিষ্যতে টাকা দাবি করলে প্রাণে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয় বলে রহিম চৌধুরী এজাহারে উল্লেখ করেন।

বাদী জানান, যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট নম্বরে (যা তার আপন বোন ও ভাগনার নামে) আমি টাকা দিয়েছি। যার যথাযথ প্রমাণ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। পুরো লেনদেনটি যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাসির আহমদ শাহীনের কথামতো হয়েছে।

রহিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নাসির আহমদ শাহীন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুক্তরাজ্য সভাপতি বলে শুনেছি। তিনি আমাকে অনেক হয়রানি করছেন। আমি তার কারণে চরম পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে নাসির আহমদ শাহীন গণমাধ্যমকে জানান যে, ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত নন; বিষয়টি তাঁর ভাগনে দেখাশোনা করে। তিনি আরও বলেন, রহিম চৌধুরী কেয়ার ভিসার জন্য হাসপাতাল থেকে যে সনদ প্রদান করেন, সেটি সঠিক না হওয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি তাঁর নজরে এলে তিনি তা দেখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় তাঁকে মামলার আসামি করা যৌক্তিক হয়নি বলে তিনি মনে করেন।