০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

চিরিরবন্দরে বেসরকারি স্কুলে চমকপ্রদ ফল, ২৪২ জনই জিপিএ-৫

অলখ সরকার, দিনাজপুর
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 205
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চিরিরবন্দর উপজেলার কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যালয় ঈর্ষণীয় ফল করেছে। এর মধ্যে আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে অংশ নেওয়া ২৪২ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। শতভাগ পাসের পাশাপাশি ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। গত বছরও বিদ্যালয়টি সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ১৬৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

এবার চিরিরবন্দরের অন্য কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ভালো ফল করেছে। মেহের-হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ৭৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমেনা-বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২১৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০২ জন।

সিটি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন এবং একাইটিস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫০ জনের মধ্যে ৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে চিরিরবন্দরের উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ পাসের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

তবে উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ছিল না আশাব্যঞ্জক। সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ইছামতি হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আটজনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। পাসের হার ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বলছেন, নিয়মিত পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা করে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পাঠদান ভালো ফলের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে অভিভাবকদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের মতে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিতর্কের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণও শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

অভিভাবকেরা বলছেন, শুধু পরীক্ষার আগে পড়াশোনার চাপ বাড়িয়ে ভালো ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সারা বছর নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং শিক্ষক-অভিভাবকের যৌথ তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্বল ফল করা বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও একাডেমিক তদারকির ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করা বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর পাঠদান পদ্ধতি চিহ্নিত করে অন্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুর্বল ফল করা বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ নজরদারি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, উপস্থিতি এবং পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ জোরদার করা দরকার। এতে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলের বৈষম্য কমিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চিরিরবন্দরে বেসরকারি স্কুলে চমকপ্রদ ফল, ২৪২ জনই জিপিএ-৫

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চিরিরবন্দর উপজেলার কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যালয় ঈর্ষণীয় ফল করেছে। এর মধ্যে আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে অংশ নেওয়া ২৪২ শিক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছে। শতভাগ পাসের পাশাপাশি ফলাফলের দিক থেকে প্রতিষ্ঠানটি দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস। গত বছরও বিদ্যালয়টি সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিল। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির ১৬৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

এবার চিরিরবন্দরের অন্য কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ভালো ফল করেছে। মেহের-হোসেন রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ৭৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমেনা-বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২১৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০২ জন।

সিটি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল থেকে ৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৫ জন এবং একাইটিস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৫০ জনের মধ্যে ৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শতভাগ।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে চিরিরবন্দরের উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ পাসের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

তবে উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ছিল না আশাব্যঞ্জক। সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ইছামতি হাই স্কুল। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আটজনের মধ্যে পাস করেছে মাত্র একজন। পাসের হার ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ভালো ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা বলছেন, নিয়মিত পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদা করে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পাঠদান ভালো ফলের অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে অভিভাবকদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের মতে, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিতর্কের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণও শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

অভিভাবকেরা বলছেন, শুধু পরীক্ষার আগে পড়াশোনার চাপ বাড়িয়ে ভালো ফল নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সারা বছর নিয়মিত পড়াশোনা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং শিক্ষক-অভিভাবকের যৌথ তদারকি প্রয়োজন। একই সঙ্গে দুর্বল ফল করা বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও একাডেমিক তদারকির ঘাটতি চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ধারাবাহিকভাবে ভালো ফল করা বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর পাঠদান পদ্ধতি চিহ্নিত করে অন্য প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুর্বল ফল করা বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ নজরদারি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, উপস্থিতি এবং পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ জোরদার করা দরকার। এতে উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলের বৈষম্য কমিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।