০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

দীর্ঘ ৩৯ বছর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অবসরে শিপ্রা রানী সেন

আশফাক আহমদ, বড়লেখা ::
  • আপডেট সময় : ১১:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 55
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বালিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শিপ্রা রানী সেন দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসর গ্রহন করেন। রোববার (৩০ আগষ্ট) ছিল তাঁর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস।

এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে এক হৃদয়গ্রাহী বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খালেদ আহমদ খান এবং সহকারী শিক্ষক বেলাল আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল ওয়াহেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৌরভ গোস্বামী, সদ্য বিদায়ী সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক শিপ্রা রানী সেন, শাহ এইচ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার চৌধুরী, বালিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মঞ্জুরী রানী শর্মা।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক শিপ্রা রানী সেন বলেন, “আজ আমার জীবনের অন্যতম এক দিন। দীর্ঘ ৩৭ বছর-যা একটি মানুষের জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময়, আমি এই একটি আঙিনায়, এই চমৎকার বিদ্যালয়টিতে কাটিয়েছি। আজ এখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার সময় আমার বুকটা ভারী হয়ে আসছে। ১৯৮৯ সালের ২ জুলাই যখন আমি প্রথম এই বিদ্যালয়ে পা রেখেছিলাম, তখন আমি ছিলাম তরুণ, চোখে ছিল একরাশ স্বপ্ন। আজ ৩৭ বছর পর যখন ফিরে তাকাচ্ছি, তখন দেখছি আমার সেই স্বপ্নগুলো শত-সহস্র শিশুর চোখের আলো হয়ে ডানা মেলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমি শুধু আপনাদের শিখাইনি, আপনাদের কাছ থেকে, বিশেষ করে এই নিষ্পাপ শিশুদের কাছ থেকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শিখেছি। আজকের এই বিদায়লগ্নে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার সকল বর্তমান ও প্রাক্তন সহকর্মীদের প্রতি।আমরা শুধু সহকর্মী ছিলাম না, আমরা ছিলাম একটি পরিবার।

ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যেশে তিনি বিলেন, “তোমরাই ছিলে আমার প্রতিদিন স্কুলে আসার মূল প্রেরণা। তোমাদের কোলাহল, তোমাদের সাফল্য, এমনকি তোমাদের দুষ্টুমিগুলোকেও আমি ভীষণ মিস করব। তোমরা সবসময় মনে রাখবে, তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ। বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং এই বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছরের এই পথচলায় মানুষ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে হয়তো কখনো কারো মনে না বুঝে কষ্ট দিয়ে থাকতে পারি। আজ বিদায়বেলায় আপনাদের সবার কাছে আমি করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনারা আমাকে যেভাবে ভালোবেসেছেন, সম্মান দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখব। আমি শারীরিকভাবে হয়তো বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আমার মন ও দোয়া সবসময় এই বিদ্যালয়ের সাথেই থাকবে। এই বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও আপনাদের সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ভূমিদাতা সদস্য শামীম আহমদ, বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ) নিজাম উদ্দিন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি রিপন নারায়ন দাস, অভিভাবক সদস্য নজরুল ইসলাম ও সোয়াদা বেগম, সহকারী শিক্ষকা বাপ্পি দে, অমি দে, বাপ্পি দাস। বক্তারা শিপ্রা রানী সেনের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিদায়ের মুহূর্তে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে জল ঝরেছিল। বিদ্যালয় পরিবার তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে ভবিষ্যতেও পরামর্শদাতা ও অভিভাবকতুল্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকা শিপ্রা রানী সেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট বিভিন্ন উপহার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, শিপ্রা রানী সেন ১৯৮৭ সালের ২০ ডিসেম্বর সুজাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দীর্ঘ ৩৯ বছর জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অবসরে শিপ্রা রানী সেন

আপডেট সময় : ১১:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বালিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শিপ্রা রানী সেন দীর্ঘ ৩৯ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টেনে অবসর গ্রহন করেন। রোববার (৩০ আগষ্ট) ছিল তাঁর চাকরি জীবনের শেষ কর্মদিবস।

এ উপলক্ষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দের পক্ষ থেকে এক হৃদয়গ্রাহী বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খালেদ আহমদ খান এবং সহকারী শিক্ষক বেলাল আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল ওয়াহেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৌরভ গোস্বামী, সদ্য বিদায়ী সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক শিপ্রা রানী সেন, শাহ এইচ এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার চৌধুরী, বালিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মঞ্জুরী রানী শর্মা।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক শিপ্রা রানী সেন বলেন, “আজ আমার জীবনের অন্যতম এক দিন। দীর্ঘ ৩৭ বছর-যা একটি মানুষের জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময়, আমি এই একটি আঙিনায়, এই চমৎকার বিদ্যালয়টিতে কাটিয়েছি। আজ এখান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার সময় আমার বুকটা ভারী হয়ে আসছে। ১৯৮৯ সালের ২ জুলাই যখন আমি প্রথম এই বিদ্যালয়ে পা রেখেছিলাম, তখন আমি ছিলাম তরুণ, চোখে ছিল একরাশ স্বপ্ন। আজ ৩৭ বছর পর যখন ফিরে তাকাচ্ছি, তখন দেখছি আমার সেই স্বপ্নগুলো শত-সহস্র শিশুর চোখের আলো হয়ে ডানা মেলেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আমি শুধু আপনাদের শিখাইনি, আপনাদের কাছ থেকে, বিশেষ করে এই নিষ্পাপ শিশুদের কাছ থেকে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচতে শিখেছি। আজকের এই বিদায়লগ্নে আমি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার সকল বর্তমান ও প্রাক্তন সহকর্মীদের প্রতি।আমরা শুধু সহকর্মী ছিলাম না, আমরা ছিলাম একটি পরিবার।

ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যেশে তিনি বিলেন, “তোমরাই ছিলে আমার প্রতিদিন স্কুলে আসার মূল প্রেরণা। তোমাদের কোলাহল, তোমাদের সাফল্য, এমনকি তোমাদের দুষ্টুমিগুলোকেও আমি ভীষণ মিস করব। তোমরা সবসময় মনে রাখবে, তোমরাই এই দেশের ভবিষ্যৎ। বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে হবে এবং এই বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করতে হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ৩৭ বছরের এই পথচলায় মানুষ হিসেবে কাজ করতে গিয়ে হয়তো কখনো কারো মনে না বুঝে কষ্ট দিয়ে থাকতে পারি। আজ বিদায়বেলায় আপনাদের সবার কাছে আমি করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আপনারা আমাকে যেভাবে ভালোবেসেছেন, সম্মান দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখব। আমি শারীরিকভাবে হয়তো বিদায় নিচ্ছি, কিন্তু আমার মন ও দোয়া সবসময় এই বিদ্যালয়ের সাথেই থাকবে। এই বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও আপনাদের সবার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- ভূমিদাতা সদস্য শামীম আহমদ, বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ) নিজাম উদ্দিন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি রিপন নারায়ন দাস, অভিভাবক সদস্য নজরুল ইসলাম ও সোয়াদা বেগম, সহকারী শিক্ষকা বাপ্পি দে, অমি দে, বাপ্পি দাস। বক্তারা শিপ্রা রানী সেনের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রশংসা করে তাঁর অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিদায়ের মুহূর্তে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে জল ঝরেছিল। বিদ্যালয় পরিবার তাঁদের প্রিয় শিক্ষককে ভবিষ্যতেও পরামর্শদাতা ও অভিভাবকতুল্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাছে পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকা শিপ্রা রানী সেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট বিভিন্ন উপহার প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, শিপ্রা রানী সেন ১৯৮৭ সালের ২০ ডিসেম্বর সুজাউল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকা হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন।