কুলাউড়ায় এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, মামলা ১০ জনের বিরুদ্ধে; আটক ৫
- আপডেট সময় : ০৯:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 27
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াসহ পাঁচজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার এলাকায় কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কে এনসিপির এহসান জাকারিয়া ও তামিম আহমদ সমর্থিত দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে উস্কানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে এহসান জাকারিয়া, এনসিপি নেতা তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়াকে আটক করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতরা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কুলাউড়া থানায় মামলা (নং-২৮) দায়ের করেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ। মামলায় এহসান জাকারিয়াসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দলীয় আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে এহসান জাকারিয়া ও তামিম আহমদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্পতিবার রাতে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মামলার বাদী তামিম আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এহসান জাকারিয়া তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এহসান জাকারিয়া ও তারেক জামিল তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতে কুলাউড়ার উত্তর বাজার এলাকায় তার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। দলীয়ভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আটক পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

























