চার দফা দাবি নিয়ে মাঠে চা শ্রমিকরা, সিলেটের ২৩ বাগানে চলছে কর্মবিরতি
- আপডেট সময় : ০১:২৮:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 24
দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন এবং ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সিলেট ভ্যালির ২৩টি চা-বাগানে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকেরা।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি বৃহস্পতিবারও সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পালন করা হয়। শ্রমিকদের দাবি, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি চলবে।
সিলেট ভ্যালির মালনীছড়া, লাক্কাতুরা, বুরজান, খাদিমসহ ২৩টি চা-বাগানে একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
চা শ্রমিকদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেট বাতিল, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজন এবং শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা।
শ্রমিকরা জানান, এসব দাবিতে তারা প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত ৯ আগস্ট সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ওই সময় দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বুধবার থেকে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।
মালনীছড়া চা-বাগানের শ্রমিক ও চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইক বলেন, “বর্তমানে একজন চা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাত্র ১৮৭ টাকা। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই সামান্য মজুরি দিয়ে একটি পরিবারের দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাও কঠিন। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলনে নেমেছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
শ্রমিকরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন না হওয়ায় শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক চা-বাগানে ভারপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চা শ্রমিকদের দেওয়া স্মারকলিপি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শিগগিরই নির্বাচন আয়োজন করবে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট চা শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এ সময় শ্রমিকদের অধিকার, ভূমি ও জীবনমান উন্নয়নসংক্রান্ত আট দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী জানান, চা-বাগানগুলোর বাস্তবতা পর্যালোচনার জন্য শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হবে। ওই দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কারণে বর্তমান মজুরিতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। দ্রুত দাবি বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
























