বড়লেখায় গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
- আপডেট সময় : ০৩:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
- / 22
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতনের পর তাঁর মরদেহ বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করেছে।
এ ঘটনায় মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসির অভিযোগও করেছে পরিবার। পাশাপাশি একটি প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত মুন্নির বাবা-মা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বাবা হাজী মকবুল আলী ও মা রেনু বেগম উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুন্নির খালাতো ভাই মাছুম আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে মুন্নির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলা গ্রহণ এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বড়লেখা উপজেলার মুড়িরগুল গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মামুনুর রশিদ লাভলুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের। বিষয়গুলো মুন্নি নিয়মিত তাঁর বাবা-মা ও স্বজনদের জানাতেন।
মুন্নির একটি এক বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি নির্যাতন সহ্য করেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানায় পরিবার। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি মুন্নির ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি বাবার বাড়ি থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। স্বামীর জন্য সৌদি আরবে গাড়ি কেনার কথা বলে এই টাকা দাবি করা হয়। পরে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হলেও নির্যাতন ও চাপ বন্ধ হয়নি। বরং ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য তাঁকে আরও টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মুন্নি তাঁর বাবা-মাকে জানান, ননদ, ভাসুর, জা ও শাশুড়ি তাঁকে যেকোনো সময় মেরে ফেলতে পারেন। গত ২১ আগস্ট তাঁদের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে তাঁকে নির্যাতন করা হয়। এ সময় মুন্নি ভিডিও ও খুদে বার্তার মাধ্যমে বাবা-মাকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে তাঁর বাবা স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ করেন। পরে এক মুরব্বি ফোন করে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানান। এর কিছুক্ষণ পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পরিচয়ে এক ব্যক্তি মুন্নির বাবাকে শ্বশুরবাড়িতে যেতে বলেন।
সেখানে গিয়ে তিনি বাথরুমের কাঠের বীমের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বাথরুমের দরজাও খোলা ছিল বলে দাবি পরিবারের। উপস্থিত ব্যক্তিরা তাঁকে জানান, মুন্নি আত্মহত্যা করেছেন।
তবে পরিবারের দাবি, মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও মুন্নি নির্যাতনের কথা বাবা-মাকে জানিয়েছিলেন। এ কারণে তাঁর আত্মহত্যার বিষয়টি তাঁদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। মরদেহ নামানোর পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। এসব আঘাতের ছবি ও ভিডিও তাঁদের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
পরিবার আরও অভিযোগ করে, মুন্নির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এখনো উদ্ধার হয়নি। ওই ফোনে নির্যাতনের ভিডিও, খুদে বার্তা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে। ফোনটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষা করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সহায়তা করবে বলে তাঁরা মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মরদেহ থানায় নেওয়ার পর কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ময়নাতদন্ত না করার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তবে পরিবারের দাবির পর শেষ পর্যন্ত ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যেন কোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত থাকে, সে দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া সুরতহাল প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও, মুন্নির মোবাইল ফোন, ভিডিও, খুদে বার্তা ও কল রেকর্ডসহ সব আলামত সংরক্ষণ এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করার দাবি জানায় পরিবার।
মুন্নির বাবা-মা বলেন, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















