ব্যবহারকারীর তথ্য দেখা যাবে না এমনকি অ্যাডমিনের কাছেও।
পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘জ্যাকটর’
- আপডেট সময় : ০৫:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 15
দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার ঝুঁকি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে ভিন্নধর্মী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘জ্যাকটর’ (Zactor)। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কাতেও অ্যাপটির বেটা সংস্করণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সফটা টেকনোলজিস লিমিটেডের তৈরি এই প্ল্যাটফর্মটি এরই মধ্যে ভারত ও নেপালে তাদের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করেছে। জ্যাকটরের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর নিরাপত্তা কাঠামো। এর প্রধান স্থপতি সুনীল কুমার সিং ফিনল্যান্ডে ডিজিটাল গভর্নেন্স ও ট্রাস্ট সিস্টেম নিয়ে দীর্ঘ এক দশকের গবেষণার অভিজ্ঞতা এই প্ল্যাটফর্মে কাজে লাগিয়েছেন।
জ্যাকটরের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘জিরো-নলেজ সার্ভার মডেল’। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য স্বয়ং সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কাছেও দৃশ্যমান হবে না।
এ ছাড়া এতে আছে মাল্টি-লেয়ার এনক্রিপশন এবং নো-ইউআরএল মিডিয়া ফ্রেমওয়ার্ক। এর মাধ্যমে কোনো ছবি বা ভিডিয়ো সরাসরি ডাউনলোড বা বাইরের কোনো মাধ্যমে পুনর্বণ্টন করা অসম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে নারীদের অনলাইন হয়রানি এবং অনুমতিহীন ছবি বা ভিডিয়ো ছড়িয়ে দেওয়ার মতো ঝুঁকি কমাতে এ প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হবে।
জ্যাকটরের আরেকটি বিশেষত্ব হলো এর অর্থায়ন পদ্ধতি। সুনীল সিং নিশ্চিত করেছেন, কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা সরকারি অনুদান ছাড়াই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাবসায়িক চাপ বা বিনিয়োগকারীদের মুনাফার স্বার্থে অনেক সময় প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর তথ্য বিক্রি বা নজরদারি করতে বাধ্য হয়। জ্যাকটর এই বলয় থেকে মুক্ত থেকে ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে।
বাংলাদেশে প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম কেবল ব্যবহারকারী বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করছে। এনক্রিপশন, লোকালাইজেশন এবং ডিজিটাল সুরক্ষার মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরিতে এটি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।


























