০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে মেয়েকে হত্যা, আদালতে স্বীকারোক্তি

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / 69
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আলোচিত কিশোরী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তার বাবা আবু বক্কর (৪৫) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। একাধিকবার নিষেধ করার পরও রিয়া ওই সম্পর্ক বজায় রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের সময় বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের নানাবাড়ির পুকুরঘাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যান। পরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রায়কা আক্তার রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর নিহতের মা বিয়ানীবাজার থানায় স্বামী আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবকের সঙ্গে রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। প্রায় এক মাস পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনে। ছেলেটি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং পরিবারের দাবি অনুযায়ী উচ্ছৃঙ্খল হওয়ায় তাদের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে মেয়েকে পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত তিন থেকে চার মাস ধরে তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে নানাবাড়িতে রাখা হয়। তবে সেখানেও স্থানীয় এক কিশোরের মাধ্যমে তিনি আগের প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে মেয়েকে হত্যা, আদালতে স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৫:২৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আলোচিত কিশোরী রায়কা আক্তার রিয়া (১৭) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তার বাবা আবু বক্কর (৪৫) আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে শনিবার (১১ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আবু বক্কর জানান, মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে তিনি হত্যার পরিকল্পনা করেন। একাধিকবার নিষেধ করার পরও রিয়া ওই সম্পর্ক বজায় রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের সময় বিয়ানীবাজার উপজেলার তিলপাড়া ইউনিয়নের ইনাম গ্রামের নানাবাড়ির পুকুরঘাটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিয়াকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যান। পরে তার মৃত্যু হয়।

নিহত রায়কা আক্তার রিয়া গোলাপগঞ্জ উপজেলার রায়গড় গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক আবু বক্করের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর নিহতের মা বিয়ানীবাজার থানায় স্বামী আবু বক্করকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর এলাকার শাহিন নামে এক যুবকের সঙ্গে রিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। প্রায় এক মাস পর পরিবার তাকে ফিরিয়ে আনে। ছেলেটি অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং পরিবারের দাবি অনুযায়ী উচ্ছৃঙ্খল হওয়ায় তাদের বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে মেয়েকে পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত তিন থেকে চার মাস ধরে তাকে বিয়ানীবাজার উপজেলার ইনাম গ্রামে নানাবাড়িতে রাখা হয়। তবে সেখানেও স্থানীয় এক কিশোরের মাধ্যমে তিনি আগের প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।