০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

১৯ দিনে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ৪৭ লাখ টাকার বেশি

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক, সিলেট
  • আপডেট সময় : ০১:১১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 66
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খুলে গণনা করে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ২৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ, রুপা ও স্বর্ণ সদৃশ ধাতব বস্তু উদ্ধার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শনিবার (১১ জুলাই) এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

শনিবার বিকেলে গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১০৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ২০ ইউরো, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার।

এ ছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা এবং স্বর্ণ সদৃশ ১০ গ্রাম ধাতব বস্তু পাওয়া যায়।

মাজার কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সর্বশেষ দানবাক্স খোলার পর থেকে এ পর্যন্ত একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল নজরানা হিসেবে দান করা হয়েছে। গরুটি জবাই করে রান্নার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগলের মধ্যে ৪০টি রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি বিক্রি করে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৫০ টাকা আয় হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। সেদিন দানবাক্সে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, যা সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়।

প্রথমবারের গণনার মাত্র ১৯ দিন পর শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। এ সময় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দানবাক্স প্রকাশ্যে খুলে অর্থ গণনার উদ্যোগের মাধ্যমে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে দানের অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য নজরানাও নিয়মিত হিসাবের আওতায় আনা হবে।

মাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ জুন প্রথমবার মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দানবাক্সে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। সে সময় বড় অঙ্কের ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য ছিল। তবে এবার ১৯ দিনে সংগৃহীত চার বস্তা টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ১০ ও ৫০ টাকার ছোট নোটই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রতিফলন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

১৯ দিনে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে ৪৭ লাখ টাকার বেশি

আপডেট সময় : ০১:১১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে খুলে গণনা করে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ২৫৩ টাকা পাওয়া গেছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ, রুপা ও স্বর্ণ সদৃশ ধাতব বস্তু উদ্ধার হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে শনিবার (১১ জুলাই) এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

শনিবার বিকেলে গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশীয় মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের ১০৫ রিয়াল, যুক্তরাষ্ট্রের ২০ ডলার, ভারতের ২ হাজার ৫৩২ রুপি, কাতারের ২২ দিরহাম, মালয়েশিয়ার ৬ রিঙ্গিত, হংকংয়ের ২০ ডলার, ২০ ইউরো, ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ইন্দোনেশিয়ার ৪ হাজার রুপিয়া, পাকিস্তানের ৬০ রুপি এবং সিঙ্গাপুরের ১০ ডলার।

এ ছাড়া দানবাক্স থেকে ৯ গ্রাম স্বর্ণ, ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম রুপা এবং স্বর্ণ সদৃশ ১০ গ্রাম ধাতব বস্তু পাওয়া যায়।

মাজার কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সর্বশেষ দানবাক্স খোলার পর থেকে এ পর্যন্ত একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল নজরানা হিসেবে দান করা হয়েছে। গরুটি জবাই করে রান্নার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ছাগলের মধ্যে ৪০টি রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি বিক্রি করে ২ লাখ ২৫ হাজার ৪৫০ টাকা আয় হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। সেদিন দানবাক্সে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, যা সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি বিশেষ হিসাবে জমা রাখা হয়।

প্রথমবারের গণনার মাত্র ১৯ দিন পর শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হয়। এ সময় মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দানবাক্স প্রকাশ্যে খুলে অর্থ গণনার উদ্যোগের মাধ্যমে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে দানের অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য নজরানাও নিয়মিত হিসাবের আওতায় আনা হবে।

মাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২২ জুন প্রথমবার মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দানবাক্সে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। সে সময় বড় অঙ্কের ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য ছিল। তবে এবার ১৯ দিনে সংগৃহীত চার বস্তা টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ১০ ও ৫০ টাকার ছোট নোটই সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রতিফলন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।