০৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্যারিসে বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুরু, ই-পাসপোর্টে স্বস্তি; আরও উদ্যোগ চান প্রবাসীরা Logo ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ, সম্পাদক মুনা Logo দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজ দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে Logo নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু: আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান Logo মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস Logo শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আকতারুল ইসলাম চৌধুরীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন Logo বড়লেখায় জুলাই গন-অভ্যত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া Logo ভারতের কলকাতায় প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ব্রাজিল Logo ইতালি জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ আন্দ্রেয়া পিরলো

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের

ষাটমাকন্ঠ ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / 95

Soccer Football - FIFA World Cup 2026 - Round of 16 - Brazil v Norway - New York New Jersey Stadium, East Rutherford, New Jersey, U.S. - July 5, 2026 Brazil's Bruno Guimaraes reacts after he has his penalty saved by Norway's Orjan Nyland REUTERS/Dylan Martinez

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সেলেসাওরা। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস এবং দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পরাজয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।

দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) নেইমার সান্ত্বনাসূচক একটি গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

বিগত ৩৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ঐতিহাসিক এই পরাজয়ের পেছনে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কিছু ভুল সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, ম্যাচের আগে ব্রুনো গিমারেসকে দলের অফিসিয়াল পেনাল্টি টেকার হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল কোচিং স্টাফদের।
দ্বিতীয়ত, ইনজুরিতে পড়া লুকাস পাকেতার বিকল্প বেছে নিতে গিয়ে আনচেলত্তি এমন এক কৌশল নেন, যা হাইতি, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে সফল হওয়া ব্রাজিলের চেনা ছন্দকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।

পাকেতার অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তি মাঝমাঠে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফ্ল্যামেঙ্গোর মিডফিল্ডার পাকেতার পজিশনে খেললেও, মূলত লেফট উইঙ্গার মার্তিনেল্লি মাঝমাঠে তার স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে ব্যর্থ হন।

মার্তিনেল্লি পাকেতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করলেও, মাঠের খেলায় ব্রাজিলকে মনে হচ্ছিল তারা সেই পুরনো ৪-২-৪ ফর্মেশনে খেলছে। ফলে দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বল পজিশন ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। আক্রমণভাগের কৌশল তখন মূলত দুই উইং দিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানের গতিভিত্তিক (ভার্টিকাল) খেলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই কৌশলে কিছু ভালো সুযোগ তৈরি হলেও, তার কোনোটিই গোলমুখে কাজে লাগানো যায়নি।

ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে আক্রমণভাগে রায়ান বল কেড়ে নিয়ে মার্তিনেল্লিকে পাস দেন। মার্তিনেল্লি বক্সে থাকা কুনিয়ার উদ্দেশে বল বাড়ালে নরওয়ের ডিফেন্ডার আয়ার তাকে ফাউল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি ইসমাইল এলফাত প্রথমে ফাউলটি এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে ভিএআর-এর সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে কোচিং স্টাফদের ভরসার পাত্র ব্রুনো গিমারেস অত্যন্ত দুর্বল শট নেন, যা অনায়াসেই রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান নালান্ড।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটির অন্যতম নায়ক ছিলেন এই গোলরক্ষক। পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেল্লি ও রায়ানের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল নস্যাৎ করেন তিনি। এমনকি ম্যাচের ৮৫ মিনিটে (দ্বিতীয়ার্ধের ৪০ মিনিট) নরওয়ের এক ডিফেন্ডারের আত্মঘাতী শটও তার  হাতে লেগে পোস্টে গিয়ে প্রতিহত হয়।

গোলরক্ষক যখন নরওয়ের জার্সিতে উজ্জ্বল, তখন ব্রাজিলের পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। দলের প্রধান তারকা হওয়া সত্ত্বেও পেনাল্টি নেওয়ার জন্য তাকে কেন বিবেচনা করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাঠের বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভিনি আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তাকে বেশ নার্ভাস দেখাচ্ছিল। আক্রমণভাগে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গ্রুপ পর্বের মতো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ব্রাজিলের

আপডেট সময় : ১১:২১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে সেলেসাওরা। প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারেসের পেনাল্টি মিস এবং দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে পরাজয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের।

দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (স্টপেজ টাইম) নেইমার সান্ত্বনাসূচক একটি গোল করলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

বিগত ৩৬ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। এর আগে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ঐতিহাসিক এই পরাজয়ের পেছনে কোচ কার্লো আনচেলত্তির কিছু ভুল সিদ্ধান্তকে বড় করে দেখা হচ্ছে। প্রথমত, ম্যাচের আগে ব্রুনো গিমারেসকে দলের অফিসিয়াল পেনাল্টি টেকার হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল কোচিং স্টাফদের।
দ্বিতীয়ত, ইনজুরিতে পড়া লুকাস পাকেতার বিকল্প বেছে নিতে গিয়ে আনচেলত্তি এমন এক কৌশল নেন, যা হাইতি, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বে সফল হওয়া ব্রাজিলের চেনা ছন্দকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।

পাকেতার অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তি মাঝমাঠে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে নামানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফ্ল্যামেঙ্গোর মিডফিল্ডার পাকেতার পজিশনে খেললেও, মূলত লেফট উইঙ্গার মার্তিনেল্লি মাঝমাঠে তার স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে ব্যর্থ হন।

মার্তিনেল্লি পাকেতার ভূমিকা পালনের চেষ্টা করলেও, মাঠের খেলায় ব্রাজিলকে মনে হচ্ছিল তারা সেই পুরনো ৪-২-৪ ফর্মেশনে খেলছে। ফলে দল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং বল পজিশন ধরে রেখে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। আক্রমণভাগের কৌশল তখন মূলত দুই উইং দিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানের গতিভিত্তিক (ভার্টিকাল) খেলার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই কৌশলে কিছু ভালো সুযোগ তৈরি হলেও, তার কোনোটিই গোলমুখে কাজে লাগানো যায়নি।

ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটে আক্রমণভাগে রায়ান বল কেড়ে নিয়ে মার্তিনেল্লিকে পাস দেন। মার্তিনেল্লি বক্সে থাকা কুনিয়ার উদ্দেশে বল বাড়ালে নরওয়ের ডিফেন্ডার আয়ার তাকে ফাউল করেন। যুক্তরাষ্ট্রের রেফারি ইসমাইল এলফাত প্রথমে ফাউলটি এড়িয়ে গেলেও, পরবর্তীতে ভিএআর-এর সহায়তায় পেনাল্টির বাঁশি বাজান। তবে কোচিং স্টাফদের ভরসার পাত্র ব্রুনো গিমারেস অত্যন্ত দুর্বল শট নেন, যা অনায়াসেই রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরজান নালান্ড।

পুরো ম্যাচজুড়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দলটির অন্যতম নায়ক ছিলেন এই গোলরক্ষক। পেনাল্টি ঠেকানোর পাশাপাশি ভিনিসিয়ুস, মার্তিনেল্লি ও রায়ানের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল নস্যাৎ করেন তিনি। এমনকি ম্যাচের ৮৫ মিনিটে (দ্বিতীয়ার্ধের ৪০ মিনিট) নরওয়ের এক ডিফেন্ডারের আত্মঘাতী শটও তার  হাতে লেগে পোস্টে গিয়ে প্রতিহত হয়।

গোলরক্ষক যখন নরওয়ের জার্সিতে উজ্জ্বল, তখন ব্রাজিলের পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। দলের প্রধান তারকা হওয়া সত্ত্বেও পেনাল্টি নেওয়ার জন্য তাকে কেন বিবেচনা করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মাঠের বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভিনি আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তাকে বেশ নার্ভাস দেখাচ্ছিল। আক্রমণভাগে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে গ্রুপ পর্বের মতো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা