ডারউইনে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে হারাল ৯ উইকেটে
- আপডেট সময় : ০৫:৫০:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 42
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চার দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। একদিনেরও বেশি সময় হাতে রেখেই পাওয়া এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার টেস্টে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে পেল দ্বিতীয় জয়। শুধু তাই নয়, ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে এমন দাপুটে জয় বিশ্ব ক্রিকেটেই বড় চমক তৈরি করেছে।
ডারউইন টেস্টের ভাগ্য মূলত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল প্রথম তিন দিনেই। চতুর্থ দিনে ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে পারে অস্ট্রেলিয়া। সেই লক্ষ্য ১ উইকেট হারিয়ে সহজেই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে একমাত্র লড়াই করেন ক্যামেরন গ্রিন। কঠিন পরিস্থিতিতে ১০৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে ইনিংস পরাজয়ের লজ্জা থেকে বাঁচান তিনি। তবে তার এই সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি।
বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। চতুর্থ দিনের সকালে মিরাজের ঘূর্ণিতে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে। তিনি ৬৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৫ উইকেট। এটি টেস্ট ক্যারিয়ারে তার ১৫তম পাঁচ উইকেট শিকার।
অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ইনিংসেও দুর্দান্ত বোলিং করেন। ক্যামেরন গ্রিনের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটসহ দুই ইনিংস মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ৯ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরান তিনি। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান হাসান।
মিরাজ নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, অফ স্টাম্পের বাইরে তৈরি হওয়া ফুটমার্ক কাজে লাগিয়ে ধৈর্য ধরে বোলিং করাই ছিল তার লক্ষ্য। প্রতিটি বলে উইকেটের চেষ্টা না করে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই উইকেটে সফলতার চাবিকাঠি ছিল।
৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম আউট হলেও এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। সাদমান অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে এবং মুমিনুল করেন অপরাজিত ৩০ রান। তার ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক রান।
বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হওয়ার মুহূর্তে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে একটাই স্লোগান- ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাসে কিছু সময়ের জন্য ডারউইনের মারারা স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে লাল-সবুজের উৎসবস্থল।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে নেমে আসে নীরবতা। ম্যাচের ফল আগেই অনুমান করে চতুর্থ দিনে মাঠে দর্শকের উপস্থিতিও ছিল খুব কম। এমনকি ভিআইপি প্রিমিয়াম লাউঞ্জও ছিল ফাঁকা। অস্ট্রেলিয়ার সমর্থকদের আগ্রহ হারানোর চিত্র যেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের আরেকটি প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৮ ও ২৮৪ (গ্রিন ১০৪, স্মিথ ৪৪, লাবুশেন ৩১; মিরাজ ৫/৬৬, হাসান মাহমুদ ৩/৫৬)
বাংলাদেশ: ৪২৬ ও ১/৫৭ (মুমিনুল ৩০*, সাদমান ২৫*)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ
সিরিজ: বাংলাদেশ ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে


























