০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি Logo উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এগিয়ে চলছে সরকার : এমপি শওকতুল ইসলাম Logo বড়লেখায় এনসিসি ব্যাংকের উদ্যোগে স্টুডেন্ট ব্যাংকিং ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি Logo হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য শাবিপ্রবির অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক Logo এসএসসি ও সমমানের ফলাফল ১০ আগস্ট Logo হাওর অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনা, শিক্ষক সংকট নিরসনে উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ Logo হার্ভার্ডের একাডেমি স্কলারস প্রোগ্রাম, বছরে ৮০ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড Logo হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু আজ Logo বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস Logo বন্ধ থাকা ৩ টি রাস্তার কাজ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম রাজন

ইতিহাস গড়তে গিয়েও থামল কেপ ভার্দে, অতিরিক্ত সময়ের মহারণে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

ছাদিক হোসেন, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 118
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কাগজে-কলমে এটি ছিল একপেশে লড়াই হওয়ার কথা। একদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে। কিন্তু মিয়ামির রাত ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিল এমন এক ম্যাচ, যা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণ আর ছন্দ সবই ছিল আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে। তবে কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ বারবার হতাশ করছিল মেসিদের। অবশেষে ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দুর্দান্ত পাস থেকে নিজের চিরচেনা বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২০তম গোল, পাশাপাশি বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ছিল, কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কেপ ভার্দে ভয় না পেয়ে আরও সাহসী ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৫৮তম মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের অসাধারণ ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা, আর গ্যালারিতে শুরু হয় কেপ ভার্দের স্বপ্ন দেখার গল্প।

এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। মেসির ফ্রিকিক, এঞ্জো ফার্নান্দেজের শট সবকিছুই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ১-১, ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আবারও এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। মনে হচ্ছিল এবার হয়তো সব শেষ। কিন্তু কেপ ভার্দে যেন হার মানতেই আসেনি। ১০৪তম মিনিটে সিডনি লোপেজের দুর্দান্ত শটে আবারও সমতায় ফেরে দলটি। সেই গোলটি ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে শেষ মোড়। ১১১তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে উঠে শক্তিশালী হেড করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। বল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মিশর।

তবে এই ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা প্রাপ্য কেপ ভার্দের। অভিষেক বিশ্বকাপেই তারা শুধু গ্রুপ পর্ব পার করেনি, বরং বর্তমান চ্যাম্পিয়নদেরও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়তে বাধ্য করেছে। মাত্র কয়েক লাখ মানুষের একটি দেশের এই লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবলে ইতিহাস, নাম কিংবা র‍্যাঙ্কিং নয়; সাহস আর বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জয় পেলেও এই ম্যাচ তাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। নকআউটের পরের ধাপগুলোতে এমন ভুলের সুযোগ খুব কমই মিলবে। তবে একটি বিষয় আবারও পরিষ্কার—দল যখন চাপে পড়ে, তখনও মেসির নেতৃত্ব, সেট-পিসের কার্যকারিতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করেই পথ খুঁজে নিতে জানে আলবিসেলেস্তেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ইতিহাস গড়তে গিয়েও থামল কেপ ভার্দে, অতিরিক্ত সময়ের মহারণে শেষ হাসি আর্জেন্টিনার

আপডেট সময় : ০১:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কাগজে-কলমে এটি ছিল একপেশে লড়াই হওয়ার কথা। একদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কেপ ভার্দে। কিন্তু মিয়ামির রাত ফুটবলপ্রেমীদের উপহার দিল এমন এক ম্যাচ, যা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।

শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণ আর ছন্দ সবই ছিল আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে। তবে কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ বারবার হতাশ করছিল মেসিদের। অবশেষে ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দুর্দান্ত পাস থেকে নিজের চিরচেনা বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশে গোল করেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার ২০তম গোল, পাশাপাশি বিশ্বকাপে ৩০ ম্যাচ খেলা প্রথম ফুটবলার হিসেবেও নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি।

প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে ছিল, কিন্তু বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কেপ ভার্দে ভয় না পেয়ে আরও সাহসী ফুটবল খেলতে শুরু করে। ৫৮তম মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের অসাধারণ ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে আফ্রিকার দলটি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা, আর গ্যালারিতে শুরু হয় কেপ ভার্দের স্বপ্ন দেখার গল্প।

এরপর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালালেও সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। মেসির ফ্রিকিক, এঞ্জো ফার্নান্দেজের শট সবকিছুই অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ১-১, ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে আবারও এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে। মনে হচ্ছিল এবার হয়তো সব শেষ। কিন্তু কেপ ভার্দে যেন হার মানতেই আসেনি। ১০৪তম মিনিটে সিডনি লোপেজের দুর্দান্ত শটে আবারও সমতায় ফেরে দলটি। সেই গোলটি ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার।

ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখনই আসে শেষ মোড়। ১১১তম মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে উঠে শক্তিশালী হেড করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। বল ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। ৩-২ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মিশর।

তবে এই ম্যাচের পর সবচেয়ে বেশি প্রশংসা প্রাপ্য কেপ ভার্দের। অভিষেক বিশ্বকাপেই তারা শুধু গ্রুপ পর্ব পার করেনি, বরং বর্তমান চ্যাম্পিয়নদেরও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়তে বাধ্য করেছে। মাত্র কয়েক লাখ মানুষের একটি দেশের এই লড়াই প্রমাণ করে দিয়েছে—ফুটবলে ইতিহাস, নাম কিংবা র‍্যাঙ্কিং নয়; সাহস আর বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় শক্তি।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনা জয় পেলেও এই ম্যাচ তাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। নকআউটের পরের ধাপগুলোতে এমন ভুলের সুযোগ খুব কমই মিলবে। তবে একটি বিষয় আবারও পরিষ্কার—দল যখন চাপে পড়ে, তখনও মেসির নেতৃত্ব, সেট-পিসের কার্যকারিতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা করেই পথ খুঁজে নিতে জানে আলবিসেলেস্তেরা।