১২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বড়লেখায় ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

রেদওয়ান আহমদ, বড়লেখা::
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 165
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছাত্রজনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

‘শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার, লীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশের শুরুতেই নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানগুলোতে ছিল— ‘আমি কে তুমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার সোনার বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নাই’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো।’ বিক্ষোভ মিছিলটি বড়লেখা পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় ছাত্রনেতা আব্দুর রহমান এবাদের সভাপতিত্বে ও কাওসার আহমদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম সুহেল, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুস সামাদ, আবু হাসান, হাফিজ জয়নাল আবেদীন, ছাত্রনেতা আব্দুল ওয়াহিদ, গাংকুল মনসুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভিপি জেবুল আহমদ, কামরান আহমদ, নোমান আহমদ, সাব্বির আহমদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন- জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নায়ক শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তারের করতে হবে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে যে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, তারই অংশ। আমরা একটি স্বপ্ন দেখছি—আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ, ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন বুকে ধারণ করে ওসমান হাদি এগিয়ে গিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় আজ আমাদের সবার। শহীদ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া প্রতিটি কাজ আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্রসমাজ সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে। ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলার অপরাধে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাঈদী, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ এবং সর্বশেষ ওসমান হাদির শাহাদাত প্রমাণ করে—এই দেশের মাটিতে ভারতীয় আধিপত্য কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।

ওসমান হাদিকে হত্যা করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। নতুন বাংলাদেশ গড়ার অগ্রসেনানীর দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন। সেই দায়বদ্ধ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, আর দুঃখজনকভাবে সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়েছে।

যারা একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংগ্রাম করছে—তাদেরকেই পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত, খুনিদের জাতির সামনে প্রকাশ্যে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত—বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরে যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বড়লেখায় ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আপডেট সময় : ০৫:০৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারা দেশের ন্যায় মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ছাত্রজনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বড়লেখা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

‘শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার, লীগ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশের শুরুতেই নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। স্লোগানগুলোতে ছিল— ‘আমি কে তুমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার সোনার বাংলায় খুনি লীগের ঠাঁই নাই’, ‘ফ্যাসিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এবং ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো।’ বিক্ষোভ মিছিলটি বড়লেখা পৌরশহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এক প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় ছাত্রনেতা আব্দুর রহমান এবাদের সভাপতিত্বে ও কাওসার আহমদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রবিউল ইসলাম সুহেল, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুস সামাদ, আবু হাসান, হাফিজ জয়নাল আবেদীন, ছাত্রনেতা আব্দুল ওয়াহিদ, গাংকুল মনসুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভিপি জেবুল আহমদ, কামরান আহমদ, নোমান আহমদ, সাব্বির আহমদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন- জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নায়ক শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তারের করতে হবে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং আসন্ন নির্বাচনকে বানচাল করার উদ্দেশ্যে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে যে গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে, তারই অংশ। আমরা একটি স্বপ্ন দেখছি—আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ, ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। যে স্বপ্ন বুকে ধারণ করে ওসমান হাদি এগিয়ে গিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায় আজ আমাদের সবার। শহীদ ওসমান হাদির রেখে যাওয়া প্রতিটি কাজ আমরা বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ভারতীয় আগ্রাসন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে এদেশের ছাত্রসমাজ সবসময়ই সোচ্চার ভূমিকা রেখেছে। ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে সত্য কথা বলার অপরাধে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলওয়ার হোসেন সাঈদী, আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ এবং সর্বশেষ ওসমান হাদির শাহাদাত প্রমাণ করে—এই দেশের মাটিতে ভারতীয় আধিপত্য কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।

ওসমান হাদিকে হত্যা করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা নয়; এটি পুরো বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের কণ্ঠরোধের অপচেষ্টা। নতুন বাংলাদেশ গড়ার অগ্রসেনানীর দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছিলেন। সেই দায়বদ্ধ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, আর দুঃখজনকভাবে সেই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হয়েছে।

যারা একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য সংগ্রাম করছে—তাদেরকেই পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত, খুনিদের জাতির সামনে প্রকাশ্যে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত—বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরে যাবে না।