০৯:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

১৯৬৭ সালের মানচিত্রের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জোর দাবি বাংলাদেশ–পাকিস্তানের

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 174
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তৃতা দিতে পোডিয়ামে ওঠামাত্র রেকর্ডসংখ্যক কূটনীতিক হল ছেড়ে বের হয়ে যান। পরে তাঁরা ফিরে এসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছ থেকে গাজার গণহত্যা নিয়ে কঠোর সমালোচনা শোনেন।

এবারের অধিবেশনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমেই পরিষ্কার করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে ‘১৯৬৭ সালের আগের সীমানা ধরে, আর রাজধানী হতে হবে আল-কুদস আল-শরিফ।’

এই সীমারেখা মানে হচ্ছে-১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৪৬ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, ওই সব এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

শাহবাজ শরিফ কেবল পূর্ব জেরুজালেমকেই রাজধানী করার কথা বলেননি, বলেছেন পুরো আল-কুদসকে তথা পুরো জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী গঠনের কথা। আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৭ সালের আগের প্রশাসনগুলো শুধু পূর্ব জেরুজালেমের কথা বলেছিল। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুরো জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাই বিশেষভাবে নজর কাড়ে। কারণ, সম্প্রতি যে পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তারা কেউই বলেনি ফিলিস্তিনের সেই রাষ্ট্রটি কোথায় গড়ে উঠবে। বিশেষ করে যখন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে তাঁর ‘গ্রেটার ইসরায়েল বা বৃহত্তর ইসরায়েল’ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন।

শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘ফিলিস্তিন আর ইসরায়েলের শেকলে বন্দী থাকতে পারে না। তাদের মুক্তি পেতেই হবে। দীর্ঘ এই অবিচার আমাদের সামষ্টিক নৈতিকতার ভয়াবহ ব্যর্থতা। প্রায় ৮০ বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের নির্মম দখলদারিত্ব সহ্য করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন নৃশংসতা। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা নির্বিচারে হত্যা করছে। কেউ তাদের জবাবদিহি করতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় নারী ও শিশুদের ওপর যে ত্রাস নেমে এনেছে, ইতিহাসে এমন উদাহরণ নেই। নিজেদের নোংরা স্বার্থ চরিতার্থ করতে ইসরায়েলি নেতৃত্ব নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে লজ্জাজনক অভিযানে নেমেছে, ইতিহাস সেটাকে অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবেই মনে রাখবে।’

এ ছাড়া, শাহবাজ শরিফই প্রথম বিশ্বনেতা, যিনি ছয় বছরের শিশু হিন্দ রজবের নাম উল্লেখ করেন। গাজায় গাড়িতে করে পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয় সে। মৃত্যুর আগে তার ফোন কল আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

শরিফ বলেন, ‘আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন সেই ছোট মেয়েটিকে…যেন সে আমাদেরই মেয়ে? তার জীবন রক্ষা করতে সামান্য মানবিকতা দেখানো গেল না! আমার যন্ত্রণা, গোটা মুসলিম উম্মাহর যন্ত্রণা-আমরা হিন্দ রজবকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

অপরদিকে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার জাতিসংঘে বলেছেন, ‘চরম জাতীয়তাবাদ, অন্যের দুর্দশাকে পুঁজি করে রাজনীতি আর মানবিক কষ্টে উদাসীনতা-এসব আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের অর্জনকে ধ্বংস করছে।’ তিনি সরাসরি ইসরায়েলের নাম না নিলেও গাজার গণহত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কিংবা ইতিহাস কেউই আমাদের ক্ষমা করবে না।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি সাধারণত মানুষকে ভয় দেখিয়ে কিছু করাতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আজ আমাকে সেই অভ্যাস ভাঙতে হচ্ছে। কারণ সত্যিই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। শিশুরা ক্ষুধায় মরছে। সাধারণ মানুষ নির্বিচারে খুন হচ্ছে। গোটা মহল্লা, এমনকি হাসপাতাল ও স্কুল মুছে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে।’

তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শুধু ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা মেনে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি রেখে শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচার সুযোগ দিলে তবেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

১৯৬৭ সালের মানচিত্রের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জোর দাবি বাংলাদেশ–পাকিস্তানের

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তৃতা দিতে পোডিয়ামে ওঠামাত্র রেকর্ডসংখ্যক কূটনীতিক হল ছেড়ে বের হয়ে যান। পরে তাঁরা ফিরে এসে পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের কাছ থেকে গাজার গণহত্যা নিয়ে কঠোর সমালোচনা শোনেন।

এবারের অধিবেশনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ প্রথমেই পরিষ্কার করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে ‘১৯৬৭ সালের আগের সীমানা ধরে, আর রাজধানী হতে হবে আল-কুদস আল-শরিফ।’

এই সীমারেখা মানে হচ্ছে-১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের দখল করা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৪৬ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী, ওই সব এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

শাহবাজ শরিফ কেবল পূর্ব জেরুজালেমকেই রাজধানী করার কথা বলেননি, বলেছেন পুরো আল-কুদসকে তথা পুরো জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী গঠনের কথা। আন্তর্জাতিক মহলের বড় অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৭ সালের আগের প্রশাসনগুলো শুধু পূর্ব জেরুজালেমের কথা বলেছিল। ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুরো জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাই বিশেষভাবে নজর কাড়ে। কারণ, সম্প্রতি যে পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তারা কেউই বলেনি ফিলিস্তিনের সেই রাষ্ট্রটি কোথায় গড়ে উঠবে। বিশেষ করে যখন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে তাঁর ‘গ্রেটার ইসরায়েল বা বৃহত্তর ইসরায়েল’ পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছেন।

শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘ফিলিস্তিন আর ইসরায়েলের শেকলে বন্দী থাকতে পারে না। তাদের মুক্তি পেতেই হবে। দীর্ঘ এই অবিচার আমাদের সামষ্টিক নৈতিকতার ভয়াবহ ব্যর্থতা। প্রায় ৮০ বছর ধরে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের নির্মম দখলদারিত্ব সহ্য করছে। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন নৃশংসতা। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা নির্বিচারে হত্যা করছে। কেউ তাদের জবাবদিহি করতে পারছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় নারী ও শিশুদের ওপর যে ত্রাস নেমে এনেছে, ইতিহাসে এমন উদাহরণ নেই। নিজেদের নোংরা স্বার্থ চরিতার্থ করতে ইসরায়েলি নেতৃত্ব নিরীহ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে লজ্জাজনক অভিযানে নেমেছে, ইতিহাস সেটাকে অন্ধকারতম অধ্যায় হিসেবেই মনে রাখবে।’

এ ছাড়া, শাহবাজ শরিফই প্রথম বিশ্বনেতা, যিনি ছয় বছরের শিশু হিন্দ রজবের নাম উল্লেখ করেন। গাজায় গাড়িতে করে পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহত হয় সে। মৃত্যুর আগে তার ফোন কল আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়।

শরিফ বলেন, ‘আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন সেই ছোট মেয়েটিকে…যেন সে আমাদেরই মেয়ে? তার জীবন রক্ষা করতে সামান্য মানবিকতা দেখানো গেল না! আমার যন্ত্রণা, গোটা মুসলিম উম্মাহর যন্ত্রণা-আমরা হিন্দ রজবকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছি।’

অপরদিকে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার জাতিসংঘে বলেছেন, ‘চরম জাতীয়তাবাদ, অন্যের দুর্দশাকে পুঁজি করে রাজনীতি আর মানবিক কষ্টে উদাসীনতা-এসব আমাদের দীর্ঘ সংগ্রামের অর্জনকে ধ্বংস করছে।’ তিনি সরাসরি ইসরায়েলের নাম না নিলেও গাজার গণহত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কিংবা ইতিহাস কেউই আমাদের ক্ষমা করবে না।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি সাধারণত মানুষকে ভয় দেখিয়ে কিছু করাতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আজ আমাকে সেই অভ্যাস ভাঙতে হচ্ছে। কারণ সত্যিই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। শিশুরা ক্ষুধায় মরছে। সাধারণ মানুষ নির্বিচারে খুন হচ্ছে। গোটা মহল্লা, এমনকি হাসপাতাল ও স্কুল মুছে যাচ্ছে মানচিত্র থেকে।’

তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শুধু ১৯৬৭ সালের আগের সীমারেখা মেনে, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনকে পাশাপাশি রেখে শান্তিপূর্ণভাবে বাঁচার সুযোগ দিলে তবেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।’