গাজায় গণহত্যা নিয়ে ভারত সরকারের নীরবতা ‘লজ্জাজনক’ : প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
- / 233
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় নীরব থাকা ‘লজ্জাজনক’। ভারত সরকারের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করলেন কংগ্রেসনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। একই সঙ্গে তিনি আল-জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক হত্যারও সমালোচনা করেছেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে প্রিয়াঙ্কা পরপর দুটি পোস্ট করেন। আল-জাজিরার সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা ও অর্থের কাছে বিশ্বের বেশির ভাগ গণমাধ্যম যখন ক্রীতদাস হয়ে রয়েছে, তখন এই সাহসী সাংবাদিকেরা আমাদের দেখালেন সৎ সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত।’
প্রিয়াঙ্কা আল-জাজিরার সাংবাদিকদের হত্যা নিয়ে ‘এক্স’-এ বার্তা দেন আজ সকাল সাড়ে ৯টায়। ঠিক এক ঘণ্টা পর গাজা গণহত্যার নীরবতায় সমালোচনা করেন ভারত সরকারের।
আজই বেলা পৌনে একটায় প্রিয়াঙ্কার সমালোচনা করে ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার ‘এক্স’ মারফত দাবি করেন, তাঁর প্রতারণা ও শঠতা লজ্জাজনক। ইসরায়েল ২৫ হাজার হামাস সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। বাকিদের হত্যা করছে হামাসই। যাঁরা পালাতে চাইছেন, তাঁদের তারা হত্যা করছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার এও দাবি করেন, গাজায় তাঁরা ২০ লাখ টন খাদ্য পাঠিয়েছেন। হামাস সন্ত্রাসীরা সেসব খাদ্য জব্দ করে নিচ্ছেন। অনাহার তাতেই বাড়ছে। রেউভেন বলেন, গত ৫০ বছরে গাজার জনসংখ্যা ৪৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে কোনো গণহত্যা হচ্ছে না। হামাসের কথা বিশ্বাস করবেন না।
কংগ্রেসনেত্রী লিখেছেন, ফিলিস্তিনবাসীদের ওপর আক্রমণ হেনে ইসরায়েল যখন সব তছনছ করে দিচ্ছে, তখন ভারতের নীরবতা লজ্জাজনক।
শুধু প্রিয়াঙ্কা নন, সাংবাদিক হত্যার সমালোচনা নানা দেশ থেকে করা হচ্ছে। ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়াও। তারা ফিলিস্তিনকে পৃথক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে চলেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, আগামী মাসে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় সেই স্বীকৃতি তাঁরা দেবেন। এর আগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফ্রান্স।
গাজা গণহত্যা নিয়ে প্রিয়াঙ্কা এর আগেও সরব হয়েছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে ‘ফিলিস্তিন’ লেখা ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেছিলেন তিনি।
আজ প্রিয়াঙ্কা লেখেন, ইসরায়েলের গণহত্যা অব্যাহত। ৬০ হাজার মানুষকে তারা ইতিমধ্যেই হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে ১৮ হাজার ৪৩০ জন শিশু। অভুক্ত রেখে তারা শিশুসহ শয়ে শয়ে মানুষকে মেরে ফেলছে। লাখ লাখ মানুষকে অভুক্ত রাখার হুমকি দিচ্ছে। এই অপরাধে চুপ করে থাকা, এর বিরুদ্ধে কিছু না করা আরেক অপরাধ।


























