০১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি Logo জুড়ীতে প্রধান শিক্ষক নিখোঁজ, মোটরসাইকেল ও জামাকাপড় উদ্ধার Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার Logo শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু, শেষ সময় ২৭ এপ্রিল Logo সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, বড়লেখা-জুড়ীতে উচ্ছ্বাস Logo কুলাউড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখায় ছাত্রশিবিরের দোয়া মাহফিল Logo বড়লেখায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ -ডা. শফিকুর রহমান

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 76

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ, তা পাঁচ বছরেই ধরা দেবে। জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। যে দেশেই থাকুক, নিয়ে আসা হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয়, তবে তা বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেট হচ্ছে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তাঁরই উত্তরসূরি। বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না।
আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। মামলা-বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা-বাণিজ্য করেছে, জুলুম করেছে। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে সে আইনের সহায়তা নিতে পারবে।
তিনি শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
বেলা আড়াইটার দিকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। ৩টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এরপর আশপাশের রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের জনসভায় বিপুলসংখ্যক নারী অংশ নেন। তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া জনসভা মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষে জামায়াত আমীর সিলেটের ৬টি ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের হাতে স্ব স্ব দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাঁদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রার্থী বক্তব্য রাখেন। এর আগে জামায়াত আমীর হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
সিলেটে খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ, গাঁজা, জুয়ায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ। এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোনো অফিস-আদালতে কারও ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগরী আমীর ও মহানগর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জয়নাল আবেদীনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সিলেটের ৬টি আসন ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিগত দিনের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন- কেউ কম, কেউ বেশি। যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে, আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তিতে থাকতে দেবো না। তাদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।
সিলেট প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন- কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয়, কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। ঢাকা–সিলেট ৬ লেনের ঝিমিয়ে পড়া কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে পরিণত করে বুলেট ট্রেন সংযুক্ত করা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেবো। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার, জলা তার হবে। চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
বেলা আড়াইটার দিকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। ৩টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি, এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে- চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখন তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে- সেই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। যোগ্যতা থাকলে চা-শ্রমিকের ছেলেও যেন যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারে- আমরা সেই সংস্কৃতি চালু করতে চাই। চাহিদার তুলনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলক কম। আমরা নির্বাচিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করবো। এরপরও যারা ঘুষ খাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। আমি এখানে বড় হয়েছি। আজ জামায়াতের আমীর হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হবো না, আপনাদের চৌকিদার হবো। যার যা মর্যাদা, তা নিশ্চিত করবো। তিনি দেশ সঠিক পথে পরিচালনার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি ইঞ্চিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ -ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবো। দেশের প্রতিটি ইঞ্চি ভূমির সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ, তা পাঁচ বছরেই ধরা দেবে। জনগণের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। যে দেশেই থাকুক, নিয়ে আসা হবে। তবে কেউ যদি স্বেচ্ছায় সেই টাকা ফেরত দিয়ে দেয়, তবে তা বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, সিলেট হচ্ছে দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী। হযরত শাহজালাল (র.) তৎকালীন জুলুমতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলেন। আমরা তাঁরই উত্তরসূরি। বাংলাদেশে গত ৫৪ বছর ধরে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরই আমরা বলেছিলাম, দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না।
আমরা ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা প্রতিশোধ নেইনি। মামলা-বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা-বাণিজ্য করেছে, জুলুম করেছে। তবে কেউ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে সে আইনের সহায়তা নিতে পারবে।
তিনি শনিবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
বেলা আড়াইটার দিকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। ৩টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এরপর আশপাশের রাস্তা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। এবারই প্রথম সিলেটে জামায়াতের জনসভায় বিপুলসংখ্যক নারী অংশ নেন। তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া জনসভা মঞ্চে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্য শেষে জামায়াত আমীর সিলেটের ৬টি ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জামায়াত ও জোটের প্রার্থীদের হাতে স্ব স্ব দলীয় প্রতীক তুলে দেন এবং তাঁদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়, ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রার্থী বক্তব্য রাখেন। এর আগে জামায়াত আমীর হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে পৃথক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
সিলেটে খনিজ সম্পদে ভরপুর উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের খনিজ সম্পদের হিস্যা সিলেটবাসী পাচ্ছে না। সিলেটের সব এলাকায় এখনও গ্যাস যায়নি। বিদ্যুৎ যায়নি সব জায়গায়। নদীগুলো মেরে ফেলা হয়েছে। মদ, গাঁজা, জুয়ায় ছেয়ে গেছে সিলেট। আমরা দায়িত্ব পেলে এগুলো বন্ধ করবো। কেবল নদী খনন নয়, নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ। এই দেশে কেউ আর চাঁদাবাজি করতে পারবে না। কোনো অফিস-আদালতে কারও ঘুষ নেওয়ার সাহস ও সুযোগ হবে না।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগরী আমীর ও মহানগর ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জয়নাল আবেদীনের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় সিলেটের ৬টি আসন ও সুনামগঞ্জের ৩টি আসনের জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিগত দিনের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন- কেউ কম, কেউ বেশি। যারা জনগণের টাকা চুরি করেছে, আমরা দায়িত্ব পেলে তাদের শান্তিতে থাকতে দেবো না। তাদের পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি বন্ধ হলে, চুরি বন্ধ হলে উন্নয়নও হবে।
সিলেট প্রবাসী-অধ্যুষিত এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন- কেবল নামেই আন্তর্জাতিক, কিন্তু পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা নামে নয়, কাজে এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করবো। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। ঢাকা–সিলেট ৬ লেনের ঝিমিয়ে পড়া কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। ঢাকা-সিলেট রেলপথকে ডুয়েল গেজ রেলপথে পরিণত করে বুলেট ট্রেন সংযুক্ত করা হবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আমরা কৃষকদের কাছে সরঞ্জাম তুলে দেবো। কৃষিপণ্যের বাজার নিশ্চিত করা হবে। জেলেদের হাতে জাল দেওয়া হবে। জাল যার, জলা তার হবে। চা-বাগানের শ্রমিকদের সন্তানদের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে।
বেলা আড়াইটার দিকে জনসভার কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই দুপুর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে আসতে থাকেন। ৩টার আগেই আলিয়া মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমীর বলেন, একদল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি, এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। এখন তারা কী বলবে- চোর তো ধরা পড়েছে। কিন্তু এখন তারা চোরের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, রাজার ছেলে রাজা হবে- সেই সংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। যোগ্যতা থাকলে চা-শ্রমিকের ছেলেও যেন যথাযোগ্য স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারে- আমরা সেই সংস্কৃতি চালু করতে চাই। চাহিদার তুলনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা তুলনামূলক কম। আমরা নির্বাচিত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করবো। এরপরও যারা ঘুষ খাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, আমি এই সিলেটের সন্তান। আমি এখানে বড় হয়েছি। আজ জামায়াতের আমীর হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন। আমরা দেশের মালিক হবো না, আপনাদের চৌকিদার হবো। যার যা মর্যাদা, তা নিশ্চিত করবো। তিনি দেশ সঠিক পথে পরিচালনার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।