১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নিজের মাথায় গুলি করে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা, ভিডিও ভাইরাল Logo বড়লেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি, অতঃপর যা ঘটলো Logo সংস্কৃতির মিলনমেলায় মুখর নটমণ্ডপ প্রাঙ্গণ Logo কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন Logo আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডে নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক Logo উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্যের ঝলক Logo বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দিরে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত

অজিত দাস, বড়লেখা::
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 169
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দির ও গ্রামগঞ্জে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষী পূজা, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের পরবর্তী প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, লক্ষ্মী দেবী ধন, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি স্বয়ং বিষ্ণুর পত্নী এবং তাঁর শক্তির উৎস।

ধারণা করা হয়, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে ধন-ধান্যে ভরিয়ে দিতে আগমন করেন। ‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ—‘কে জেগে আছো?’ শাস্ত্র মতে, এই রাতে যে পরিবার জাগ্রত থাকে, সেখানে দেবী প্রবেশ করেন। আর যারা ঘুমিয়ে থাকে, তাদের গৃহে তিনি প্রবেশ না করে ফিরে যান। এজন্য এই পূজায় রাত্রিজাগরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে আজ (সোমবার) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে এবং তা শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে।

লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলে নানা প্রস্তুতি। চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা আলপনায় আঁকা হয় ‘লক্ষ্মীর পা’র ছাপ। মঙ্গলঘট, ধানের ছড়া, আম্রপল্লব, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ও আতপ চালের সঙ্গে ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন ও সিঁদুরও পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দিনে অনেক রমণী উপবাস ব্রত পালন করে দেবীর কৃপা প্রার্থনা করেন।

বাংলার জনসমাজে দেবী লক্ষ্মীকে নিয়ে বহু লোককথা ও গল্প প্রচলিত আছে। লক্ষ্মীপূজার দিন এই গল্পগুলো পাঁচালি আকারে পাঠ করা হয়, যা ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে পরিচিত।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার নেন, তখন লক্ষ্মীও সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে প্যাঁচাকে দেখা হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-বাদশা, জমিদার থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরাও এই পূজা করে আসছেন। বর্তমানে বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরেই লক্ষ্মীপূজা এক আনন্দময় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দিরে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দির ও গ্রামগঞ্জে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষী পূজা, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের পরবর্তী প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, লক্ষ্মী দেবী ধন, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি স্বয়ং বিষ্ণুর পত্নী এবং তাঁর শক্তির উৎস।

ধারণা করা হয়, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে ধন-ধান্যে ভরিয়ে দিতে আগমন করেন। ‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ—‘কে জেগে আছো?’ শাস্ত্র মতে, এই রাতে যে পরিবার জাগ্রত থাকে, সেখানে দেবী প্রবেশ করেন। আর যারা ঘুমিয়ে থাকে, তাদের গৃহে তিনি প্রবেশ না করে ফিরে যান। এজন্য এই পূজায় রাত্রিজাগরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে আজ (সোমবার) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে এবং তা শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে।

লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলে নানা প্রস্তুতি। চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা আলপনায় আঁকা হয় ‘লক্ষ্মীর পা’র ছাপ। মঙ্গলঘট, ধানের ছড়া, আম্রপল্লব, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ও আতপ চালের সঙ্গে ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন ও সিঁদুরও পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দিনে অনেক রমণী উপবাস ব্রত পালন করে দেবীর কৃপা প্রার্থনা করেন।

বাংলার জনসমাজে দেবী লক্ষ্মীকে নিয়ে বহু লোককথা ও গল্প প্রচলিত আছে। লক্ষ্মীপূজার দিন এই গল্পগুলো পাঁচালি আকারে পাঠ করা হয়, যা ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে পরিচিত।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার নেন, তখন লক্ষ্মীও সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে প্যাঁচাকে দেখা হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-বাদশা, জমিদার থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরাও এই পূজা করে আসছেন। বর্তমানে বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরেই লক্ষ্মীপূজা এক আনন্দময় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।