০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন Logo প্রাথমিক শিক্ষা পদক/ জুড়ীর অনিক জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারি শিক্ষক নির্বাচিত Logo জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপি পরিবারের ঔষধ সহায়তা Logo ফ্রী-ফায়ার গেম নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২ Logo শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম Logo ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্বে দূর্জয়-মোস্তাকিম Logo বিসিবি নির্বাচনে বিনা ভোটে আসছেন ৪ পরিচালক, জমজমাট লড়াই ক্লাব ক্যাটাগরিতে Logo জুড়ীর বেলাগাঁও-কন্টিনালা নদী ভাঙন রোধে চলমান কাজ পরিদর্শনে এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ Logo কমলগঞ্জে বজ্রপাতে একজন চা-শ্রমিকের মৃত্যু, আহত পাঁচ Logo স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ১ম বর্ষ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদন শুরু

মানবতার চেয়ে বড় ধর্ম পৃথীবিতে নেই: অনিরুদ্ধ দাস, ভারতীয় হাই কমিশনার

খোর্শেদ আলম, জুড়ী প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • / 142
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

“মানুষের একটাই ধর্ম—মানবতা। মানবতার চেয়ে বড় পৃথিবীতে কিছুই নেই।” এমন মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেট-এর সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে জুড়ী উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামে প্রায় ৮০ বছর ধরে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অটুট রেখে দীর্ঘ আট দশক ধরে একই ছাদের নিচে পারিবারিক বন্ধন ধরে রাখার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।

সহকারী হাই কমিশনার বলেন, আট দশক ধরে আপনারা যে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। আপনাদের এই ঐতিহ্য শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে। একান্নবর্তী পরিবারের এই দৃষ্টান্ত দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এই এলাকায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও জীবনযাপন করছেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন সহাবস্থান সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সাক্ষাৎকালে তিনি পরিবারের সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন এবং তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের পারিবারিক ইতিহাস, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা মূল্যবোধ সম্পর্কে অবগত হন।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই স্মৃতি আমার আজীবন মনে থাকবে। আপনাদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত হলাম।

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনের প্রেস, তথ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সচিব রাজেশ ভাটিয়া, ধামাই চা বাগানের জিএম কাজল মাহমুদ এবং গ্রাউকের চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন পাল প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, বিনন্দপুর গ্রামের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারিবারিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। তাদের এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মানবতার চেয়ে বড় ধর্ম পৃথীবিতে নেই: অনিরুদ্ধ দাস, ভারতীয় হাই কমিশনার

আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

“মানুষের একটাই ধর্ম—মানবতা। মানবতার চেয়ে বড় পৃথিবীতে কিছুই নেই।” এমন মন্তব্য করেছেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন সিলেট-এর সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।

বুধবার (৪ মার্চ) বিকালে জুড়ী উপজেলার বিনন্দপুর গ্রামে প্রায় ৮০ বছর ধরে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অটুট রেখে দীর্ঘ আট দশক ধরে একই ছাদের নিচে পারিবারিক বন্ধন ধরে রাখার বিষয়টি তাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানান তিনি।

সহকারী হাই কমিশনার বলেন, আট দশক ধরে আপনারা যে একান্নবর্তী পরিবার হিসেবে বসবাস করছেন, তা সত্যিই অনুকরণীয়। আপনাদের এই ঐতিহ্য শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের মানুষের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে। একান্নবর্তী পরিবারের এই দৃষ্টান্ত দুই দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, এই এলাকায় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একসাথে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও জীবনযাপন করছেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এমন সহাবস্থান সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদার করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সাক্ষাৎকালে তিনি পরিবারের সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন এবং তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের পারিবারিক ইতিহাস, আচার-অনুষ্ঠান ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা মূল্যবোধ সম্পর্কে অবগত হন।

তিনি আরও বলেন, আজকের এই স্মৃতি আমার আজীবন মনে থাকবে। আপনাদের কাছ থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত হলাম।

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনের প্রেস, তথ্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সচিব রাজেশ ভাটিয়া, ধামাই চা বাগানের জিএম কাজল মাহমুদ এবং গ্রাউকের চেয়ারম্যান অশোক রঞ্জন পাল প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, বিনন্দপুর গ্রামের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারিবারিক ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছে। তাদের এই ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।