০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দিরে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত

অজিত দাস, বড়লেখা::
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 218
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দির ও গ্রামগঞ্জে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষী পূজা, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের পরবর্তী প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, লক্ষ্মী দেবী ধন, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি স্বয়ং বিষ্ণুর পত্নী এবং তাঁর শক্তির উৎস।

ধারণা করা হয়, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে ধন-ধান্যে ভরিয়ে দিতে আগমন করেন। ‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ—‘কে জেগে আছো?’ শাস্ত্র মতে, এই রাতে যে পরিবার জাগ্রত থাকে, সেখানে দেবী প্রবেশ করেন। আর যারা ঘুমিয়ে থাকে, তাদের গৃহে তিনি প্রবেশ না করে ফিরে যান। এজন্য এই পূজায় রাত্রিজাগরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে আজ (সোমবার) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে এবং তা শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে।

লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলে নানা প্রস্তুতি। চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা আলপনায় আঁকা হয় ‘লক্ষ্মীর পা’র ছাপ। মঙ্গলঘট, ধানের ছড়া, আম্রপল্লব, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ও আতপ চালের সঙ্গে ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন ও সিঁদুরও পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দিনে অনেক রমণী উপবাস ব্রত পালন করে দেবীর কৃপা প্রার্থনা করেন।

বাংলার জনসমাজে দেবী লক্ষ্মীকে নিয়ে বহু লোককথা ও গল্প প্রচলিত আছে। লক্ষ্মীপূজার দিন এই গল্পগুলো পাঁচালি আকারে পাঠ করা হয়, যা ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে পরিচিত।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার নেন, তখন লক্ষ্মীও সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে প্যাঁচাকে দেখা হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-বাদশা, জমিদার থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরাও এই পূজা করে আসছেন। বর্তমানে বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরেই লক্ষ্মীপূজা এক আনন্দময় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দিরে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় বিভিন্ন মন্দির ও গ্রামগঞ্জে শুরু হয়েছে কোজাগরী লক্ষী পূজা, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। শারদীয় দুর্গোৎসবের পরবর্তী প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, লক্ষ্মী দেবী ধন, সৌভাগ্য ও সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি স্বয়ং বিষ্ণুর পত্নী এবং তাঁর শক্তির উৎস।

ধারণা করা হয়, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে ধন-ধান্যে ভরিয়ে দিতে আগমন করেন। ‘কোজাগরী’ শব্দের অর্থ—‘কে জেগে আছো?’ শাস্ত্র মতে, এই রাতে যে পরিবার জাগ্রত থাকে, সেখানে দেবী প্রবেশ করেন। আর যারা ঘুমিয়ে থাকে, তাদের গৃহে তিনি প্রবেশ না করে ফিরে যান। এজন্য এই পূজায় রাত্রিজাগরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে আজ (সোমবার) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে এবং তা শেষ হবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে।

লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলে নানা প্রস্তুতি। চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা আলপনায় আঁকা হয় ‘লক্ষ্মীর পা’র ছাপ। মঙ্গলঘট, ধানের ছড়া, আম্রপল্লব, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য ও আতপ চালের সঙ্গে ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন ও সিঁদুরও পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই দিনে অনেক রমণী উপবাস ব্রত পালন করে দেবীর কৃপা প্রার্থনা করেন।

বাংলার জনসমাজে দেবী লক্ষ্মীকে নিয়ে বহু লোককথা ও গল্প প্রচলিত আছে। লক্ষ্মীপূজার দিন এই গল্পগুলো পাঁচালি আকারে পাঠ করা হয়, যা ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে পরিচিত।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বিষ্ণু যখন রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার নেন, তখন লক্ষ্মীও সীতা ও রাধা রূপে তাঁর সঙ্গিনী হন। লক্ষ্মীর বাহন হিসেবে প্যাঁচাকে দেখা হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-বাদশা, জমিদার থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরাও এই পূজা করে আসছেন। বর্তমানে বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরেই লক্ষ্মীপূজা এক আনন্দময় ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে।