০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo স্পিকারের দায়িত্বে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল Logo রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার Logo মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কালিটি চা-বাগানে এক ঘণ্টার কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও মিছিল Logo পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি Logo দাবানলে বিপর্যস্ত ফ্রান্স, ইইউর সহায়তা চাইল প্যারিস; স্পেনে জরুরি অবস্থা Logo ফ্রান্সে ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ Logo শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আকতারুল ইসলাম চৌধুরীর মৃত্যুতে উপাচার্যের শোক Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬

আমি রাজনীতিতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই

ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
  • / 349
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘গড়বো মোরা ইনসাফের দেশ’ এই স্লোগানে “জনতা পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি)” নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, আর মহাসচিব হয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ।

নতুন এই দলে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়

নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের নাম ঘোষণা ও ইশতেহার উপস্থাপন করেন শওকত মাহমুদ। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং একসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দলটির ২৭ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ঘোষিত কমিটি অনুযায়ী, ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। নির্বাহী চেয়ারম্যান ও দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন রফিকুল হক হাফিজ, ওয়ালিউর রহমান খান, রেহানা সালাম, মো. আব্দুল্লাহ, এম এ ইউসুফ এবং নির্মল চক্রবর্তী।

মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন শওকত মাহমুদ, আর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন এম আসাদুজ্জামান। যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আল আমিন রাজু ও নাজমুল আহসান। দলের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নুরুল কাদের সোহেল। সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গুলজার হোসেন এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে আছেন হাসিবুর রেজা কল্লোল।

এ ছাড়াও সম্মানিত সদস্য হিসেবে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন মেজর (অব.) ইমরান এবং কর্নেল (অব.) সাব্বির। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন শাহ মো. আবু জাফর, মেজর (অব.) মুজিব, ইকবাল হোসেন মাহমুদ, ডা. ফরহাদ হোসেন মাহবুব, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, আউয়াল ঠাকুর, তৌহিদা ফারুকী এবং মামুনুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “আমি কেন রাজনীতিতে আসছি, তা আগে বলতে চাই। গত ৩২ বছর আমি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ করে গেছি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে যেসব সরকারকে পেয়েছি, তাদের কারো পক্ষ থেকেই কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। এ কারণে আন্দোলনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ-বিদেশে নানা সেমিনারে অংশ নিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি, সরকারের সদিচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আমি রাজনীতিকে বেছে নিয়েছি, যাতে জনগণের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারি।”

নিজের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকিয়ে কাঞ্চন বলেন, “এই ৩২ বছরে আমি ব্যর্থ হয়েছি। যে সময় আমি ব্যয় করেছি, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আমার আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি।” তবে রাজনীতিতে সততার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “যেভাবে আমি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি, ঠিক সেভাবেই আমি রাজনীতিতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জনমত গঠনে সক্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্বাচন করার ও মন্ত্রী হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এবারই প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন তিনি।

সর্বশেষ ২০২২-২০২৪ সেশনে ইলিয়াস কাঞ্চন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমাজ সেবায় একুশে পদক, অভিনয় ও নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্র ও বাচসাস পুরস্কারেও ভূষিত হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আমি রাজনীতিতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই

ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫

‘গড়বো মোরা ইনসাফের দেশ’ এই স্লোগানে “জনতা পার্টি বাংলাদেশ (জেপিবি)” নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন, আর মহাসচিব হয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ।

নতুন এই দলে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা স্থান পেয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নতুন রাজনৈতিক দলের যাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়

নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের নাম ঘোষণা ও ইশতেহার উপস্থাপন করেন শওকত মাহমুদ। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং একসময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দলটির ২৭ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

ঘোষিত কমিটি অনুযায়ী, ‘জনতা পার্টি বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। নির্বাহী চেয়ারম্যান ও দলটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন রফিকুল হক হাফিজ, ওয়ালিউর রহমান খান, রেহানা সালাম, মো. আব্দুল্লাহ, এম এ ইউসুফ এবং নির্মল চক্রবর্তী।

মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন শওকত মাহমুদ, আর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রয়েছেন এম আসাদুজ্জামান। যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন এবিএম রফিকুল হক তালুকদার রাজা, আল আমিন রাজু ও নাজমুল আহসান। দলের সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নুরুল কাদের সোহেল। সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক গুলজার হোসেন এবং প্রচার সম্পাদক হিসেবে আছেন হাসিবুর রেজা কল্লোল।

এ ছাড়াও সম্মানিত সদস্য হিসেবে কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন মেজর (অব.) ইমরান এবং কর্নেল (অব.) সাব্বির। উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন শাহ মো. আবু জাফর, মেজর (অব.) মুজিব, ইকবাল হোসেন মাহমুদ, ডা. ফরহাদ হোসেন মাহবুব, জাফর ইকবাল সিদ্দিকী, আউয়াল ঠাকুর, তৌহিদা ফারুকী এবং মামুনুর রশীদ।

অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “আমি কেন রাজনীতিতে আসছি, তা আগে বলতে চাই। গত ৩২ বছর আমি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষের জন্য কাজ করে গেছি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে যেসব সরকারকে পেয়েছি, তাদের কারো পক্ষ থেকেই কোনো ধরনের সহযোগিতা পাইনি। এ কারণে আন্দোলনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “দেশ-বিদেশে নানা সেমিনারে অংশ নিয়ে আমি বুঝতে পেরেছি, সরকারের সদিচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আমি রাজনীতিকে বেছে নিয়েছি, যাতে জনগণের জন্য আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারি।”

নিজের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের দিকে ফিরে তাকিয়ে কাঞ্চন বলেন, “এই ৩২ বছরে আমি ব্যর্থ হয়েছি। যে সময় আমি ব্যয় করেছি, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আমার আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি।” তবে রাজনীতিতে সততার সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “যেভাবে আমি ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি, ঠিক সেভাবেই আমি রাজনীতিতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাই।”

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে জনমত গঠনে সক্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৩ সালে স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে নির্বাচন করার ও মন্ত্রী হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এবারই প্রথম সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন তিনি।

সর্বশেষ ২০২২-২০২৪ সেশনে ইলিয়াস কাঞ্চন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সমাজ সেবায় একুশে পদক, অভিনয় ও নির্মাতা হিসেবে চলচ্চিত্র ও বাচসাস পুরস্কারেও ভূষিত হন।